মামলা নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দলীয় শীর্ষ পদে নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধেও মামলা থাকার তথ্য তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একটা মন্তব্য করেছেন, বিএনপি না কি আসামিদের নির্বাচন করেছে।

“আমরা বলতে চাই, যিনি (প্রধানমন্ত্রী) এই কথাটা বললেন, তিনি নিজে একজন আসামি। এক-এগারোর পর আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি নাইকো দুর্নীতি মামলা, বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা, মিগ-২৯ ক্রয় দুর্নীতি মামলা, ব্যবসায়ী নুর আলী ও আজম জে চৌধুরীর চাঁদাবাজিসহ ১৫টি মামলার আসামী ছিলেন।
“আপনি একজন আসামি হয়ে কীভাবে, কোন মুখে আজকে বললেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয় আসামিরা। আপনারা সেই অধিকার নেই।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আখ্যায়িত করে তার নিন্দা জানিয়েছেন মোশাররফ।

বিএনপির কাউন্সিলের আগে খালেদা ও তার ছেলে তারেকের দলের শীর্ষ দুই পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গ ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সোমবার ঢাকায় এক জনসভায় বলেছিলেন,“কাকে নির্বাচিত করল? দুজনই আসামি, একজন এতিমের টাকা চুরি করার মামলার আসামি, আরেকজন তো ২১ অগাস্ট মামলার পলাতক আসামি, তার নাম ইন্টারপোলে ওয়ান্টেড তালিকায় আছে।

বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বক্তব্যের সমালোচনায় মোশাররফ বলেন, “বিএনপি তার নেতা হিসাবে কাকে নির্বাচন করবে, সেটা নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব। সেখানে আরেকটি দলের প্রধান এ ব্যাপারে মাথা ঘামাতে পারেন না।”

তারেক রহমানের দশম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনায় তার গ্রেপ্তার হওয়ার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায় সরকার আমলে কারাবন্দি এই বিএনপি নেতা।

“গ্রেপ্তারের সময়ে তারেকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল? মাইনাস টুয়ের নামে প্রকৃতপক্ষে মাইনাস ওয়ান বা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য তারা মাঠে নেমেছিল। সে জন্যই প্রয়োজন হয়েছিল জাতীয়তাবাদী দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা।”

২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টা আগে নিজেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তাকে রিমান্ডের নামে যে নির্যাতন করা হয়েছিল, তার ফলে তার মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছিল। সেই ১/১১ সরকারের কুশীলবদের উদ্দেশ্য ছিল তারেক রহমানকে নিঃশেষ করে দেওয়া।”

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও তারেক রহমানকে ‘ভয় পায়’ মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, “যেসব কারণে তারেক রহমান ১/১১ সরকারের কাছে টার্গেট হয়েছিল, একই কারণে তিনি (তারেক) বর্তমান সরকারের টার্গেট।”

সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

তবে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা শাহ মোয়াজ্জেম একই জেলার বাসিন্দা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

“অ্যাটর্নি জেনারেলকে ধন্যবাদ জানাই তিনি বলেছেন, দুই মন্ত্রী সঠিক কথা বলেননি। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার মতো কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের অ্যাটর্নি জেনারেলে মতো কথা বলেননি। ”

সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও শামীমুর রহমান শামীম।

এআইজে