একদলীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ফ্যাসীবাদী নীতির কারণে সরকার ইতোমধ্যেই দেশে-বাইরে সকলের কাছেই পরিত্যাক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর র্নিবাহী পরষিদরে সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

আজ শনিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতার রশি ছিড়ে ফেলতেই মুক্তিকামী জনতা সরকারী পেটোয়া বাহিনীর দেখামাত্র গুলির নির্দেশ উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগন সকল জুলুমের অবসান ঘটাবে।

খান বলেন, আ্ওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে লুটপাটতন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী, পদ্মাসেতু দুর্নীতি, হলমার্ক, ডেসটিনির নামে গণদস্যুতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করায় এদেশ ও জাতির প্রতি শাসকদলের কোন দায়বদ্ধতা নাই।

ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সাজানো বিচার করে জাতিকে বিভক্ত করেছে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে। তাই ক্ষমতা থেকে সরে গেলে জনগণ সকল জুলুমের প্রতিশোধ নেবে এই ভয়েই তারা একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু সকল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস মুকাবেলা করেই জনগণ এখন রাস্তায় নেমেছে। চলমান আন্দোলনের কাঙ্খিত বিজয় ছাড়া জনগন গরে ফিরবেনা। 

বাংলাদেশে জুলুমের অবসান ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফাসিব্যাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে জাতীয় ঐক্যমত্য তৈরী হয়েছে এরই ভিত্তিতে আরো কঠোর সর্বাত্মক কর্মসূচি দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের সকল স্তরে দখলদার সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখন আলগা হয়ে গেছে। দেখামাত্র গুলির হুমকি উপেক্ষা করে আজ রাজধানীর মগবাজার, বনানী, মতিঝিল, পল্টন, মোহাম্মাদপুর, আদাবর, মীরপুর, পল্লবী, বাড্ডা, খিলগাঁও, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর, সবুজবাগ, ডেমরা, বংশাল, কোতয়ালী,কদমতলী,শ্যামপুর, যাত্রাবাড়িসহ বিভিন্ন থানা ও এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করায় নগরবাসীকে তিনি অভিনন্দন  জানান ।

বেশীরভাগ পুলিশ কর্মকর্তা চাকুরী ও প্রাণরক্ষার জন্য এখন আর আগের মত ক্ষমাতাসীনদের বেআইনী আদেশ মানছেন না ।

তবে এখনও যে কয়েকজন অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা গণগ্রেফতার করে নিপীড়ন ও চাঁদাবাজি করছেন তাদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য জনগনের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন।

আজও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা করে রফিকুল ইসলাম খান তার বিবৃতিতে বলেন, সরকার এখন বাসাবাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্য করছে।

দেশের স্বানামধন্য প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রকাশনীতে বিনা সার্চ ওয়ারেন্টে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল সেক্রেটারী  ও জেনারেল ম্যানেজারসহ অন্তত ৫জনের আটকের তীব্র নিন্দা জানান।

এছাড়া হাজারীবাগে ৪ জন ও বংশালে ১ জনসহ বিভিন্ন জাগায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

এর আগে বিজয়নগরে আলরাজি টাওয়ারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেআইনী তল্লাসীর নামে পুলিশের চাঁদাবাজির বিষয়ে জনাব খান বলেন, সরকারের অন্তিম পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই কতিপয় চিহ্নিত পুলিশ সদস্য এখন শেষ সময়ের টাকা আদায়ের জন্যই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে। সকল পেশার কর্মরতদের নগরবাসীকে সাথে নিয়ে এসব চাঁদাবাজদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার আহবান জানান তিনি।

মাওলানা খান বলেন, ফাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ তরান্মিত করার জন্য শিগগিরই আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

জনতার সংগ্রামকে বিজয়ী করতে দলের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আরো ত্যাগের মনোভাব নিয়ে দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে যাবার আহবান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করতে শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, মেহনতি মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক ও ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান।

গনতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসাবে অবরোধ এবং রাজধানীসহ সারাদেশে রোববার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ৭২ ঘন্টা হরতালসহ সকল কর্মসূচী সফল করতে রাজধানীর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে মাঠে নেমে আসার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহ্বান জানান।

এসএইচ