সিটি নির্বাচন নিয়ে সরকার ফাঁদে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রীম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
‘গুম-হত্যা, পেশাজীবী নির্যাতন, বাকস্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার হরণ, স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি সিটি নির্বাচনে আসায় ফাঁদে পড়েছে আওয়ামী লীগ। সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। তারা মনে করেছিল, নির্বাচন দিলে বিএনপি আন্দোলন থেকে বিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। কিন্তু এটা তাদের ভুল ধারণা। যখনই বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসবে তখনই হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসবে।’
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা একের পর এক চমক সৃষ্টি করেছেন। ১২ বছর পর ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি নির্বাচনে না যেত তাহলে সরকার খুশী হতো। তারা বিশ্ববাসীকে দেখাত যে, বিএনপির কোনো ভোট নেই। তারা জঙ্গী হয়ে গেছে।’

তিনি নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘৫ জানুয়ারির কলঙ্কিত নির্বাচন করে তারা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। আশা করি এবার তারা অতীত ভুলে আজ্ঞাবহ আচারণ থেকে বের হয়ে আসবে। নাহলে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’
‘বিগত পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন’ বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী এ নেতা।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। সরকার ভেবেছিল তারা পেট্রোল বোমা মারবে, সেই দোষ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের হবে। সেভাবেই তারা প্রচার করেও আসছিল। কিন্তু বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শত শত মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করা হচ্ছে সেটা প্রচার করছে না। এর জন্য বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।

পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্ববায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে। সরকারকে তার আগে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একদিকে নির্বাচনের কথা বলবে অন্য দিকে গ্রেফতার হামলা-মামলা করবে এমন হতে পারে না।

শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ড্যাবের মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের যুগ্ম-মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান প্রমুখ।

 

 

 

এমএইচ