বাংলাদেশকে একটি ‘বৃহৎ কারাগার’ অভিহিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের মানুষকে মুক্ত করতে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে। পুরো জাতি এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এ মুক্তির লড়াইকে সফল করতে প্রবাসীদেরকে মুক্তিযুদ্ধের আদলে ভুমিকা রাখতে হবে।
প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে ঈদের দিন বেগম খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরিবারের সদস্যদের সাথেও তিনি নয় বছর পর ঈদ করলেন।
ঈদ উল আজহার দিন সকালে সকাল তিনি তারেক রহমানের কিংসটনের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছেলে সময় কাটান। বিকালে দলীয় নেতাকর্মী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ইলফোর্ডের ফেয়ারলুপ ওয়ার পার্ক অডিটোরিয়ামে দুই সহস্রাধিক প্রবাসী এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান মঞ্চে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমান মায়ের সঙ্গে কোনো অনুষ্ঠান একমঞ্চে বসলেন।
বক্তৃতার শুরুতেই বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এই প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে ঈদ করছি। কিন্তু এখানে আপনাদের সবাইকে কাছে পেয়ে মনে হচ্ছে, আমি যেন দেশেই আছি। দীর্ঘদিন পর যেমন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত পেয়েছি, তেমনি এই অনুষ্ঠানে এসেও ভাল লাগছে। কারন আপনারা আমার পরিবারের সদস্যের মতোই আপন।
দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, সারা দেশ যেন আজ কারাগার। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় ফেরারী। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের দমন-পীড়ন আর অত্যাচারে দেশের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। তাই বিএনপির পেছনে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মানুষের কোনো মৌলিক অধিকার নেই, মানবাধিকার নেই, আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীদের ওপর বিশ থেকে একশটির মতো মামলা রয়েছে। মানুষ ঠিক মতো ঘুমাতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, সরকার আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধানকে পরিবর্তন করে নিজেদের মতো করেছে। দেশে সেই বাকশালের মতো অবস্থা চলছে। লেদা বাংলাদেশে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের মাধ্যমে এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
দেশে সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নেই। সাংবাদিকরা সত্যি কথা লিখতে পারে না। সত্যি কথা লিখলে তাদের নামে মামলা হয়, জেল হয়। যারা টকশো-তে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের সমালোচনা করে তাদেরকে টকশো-তে আসতে দেয়া হয় না। সংবাদপত্রে বা টেলিভিশনে বিরোধী দলের কিছু প্রচার করতে দেয়া হয় না। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারেক রহমানের সত্য বক্তব্যে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়, যোগ করেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় আতংক হলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। কিছু হলেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম। একদলীয় পার্লামেন্টে বসে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানকে গালিগালাজ করা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই।
বেগম জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। প্রতি মুহর্তে দেশের মানুষ খুন ও গুম হচ্ছে। চলছে অত্যাচার, অনাচার আর গুমনীতি। কোনো উন্নয়ন নেই। দেশের মানুষ এসবের পরিবর্তন চায়। চায় শান্তি, উন্নয়ন ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি।
ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপিসমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।
কেএইচ





