গণতন্ত্রের প্রাণ শক্তি নির্বাচন। দেশে সুষ্ঠ গণতন্ত্র দাঁড় করাতে হলে নির্বাচনের বিকল্প কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ।
দিগন্ত টেলিভিশনের ৭ম বর্ষপূর্তিতে সম্প্রসার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদী সংহতি সম্মিলনে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটাই সমস্যা বিশৃঙ্খখলা সৃষ্টি করা। নানাভাবে যারা এই গোলমাল লাগিয়েছে, তারাই এর ফলভোগ করছে। গণতন্ত্রছাড়া বাংলাদেশে আর কোন বিকল্প উপায় নেই, সেই গণতন্ত্র রেডিমেট গণতন্ত্র নয়, মৌলিক গণতন্ত্র হতে হবে। আর আজ পর্যযন্ত কোন রাজনৈতিক দলই জনগনের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চায় না। যে যার উপর পারে প্রভাব খাঁটিয়ে চলতে চায়।
আব্দুর রউফ বলেন, সাধারণ মানুষকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েদেশে সুষ্ঠ গণতন্ত্র দাঁড় করাতে হলে নির্বাচনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। আবার নির্বাচন এমনভাবে হতে হবে যেন সাধারণ জনগণই এই নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। কারণ নির্বাচন কমিশন কোন কাজে আসে না যদি তাদের অধিকার না থাকে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনি দয়া করে পরিস্কার চিন্তা করুন। অতীতের কথা ভূলে গিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেন।
তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যরিষ্টার মঈনুল হোসেন বলেছেন, আজ আমাদের কাছে সঠিক আইডিয়ার অভাব। স্বাধীন দেশ পেয়েছি ঠিক, কিন্তু সেটা কি ভাবে চলবে তার সঠিক আইডিয়া আমাদের কাছে নেই। হিটলারের নাম হিটলার হয়েছে তার কাজের কারনেই। সে সব ধরণের বাক স্বাধীনতাকে হরণ এবং মিডিয়াকে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আজ বাংলাদেশেও তেমনই হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগ যে দলের কথাই বলেন তারা যে যখন ক্ষমতায় আসে তারা সঠিকভাবে গণতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করেনি। সাংবাদিক বলেন আর আইনজীবী বলেন, তারা সব কিছুই দু’ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। পার্লামেন্ট ও নির্বাচন কমিশনকে তারা আজ অকেজো করে দিয়েছে।
ব্যরিষ্টার মঈনুল হোসেন বলেন, আমার দাবীতে যদি দিগন্ত টেলিভিশন খুলে দিত, তাহলে এই দাবী আমি সব সময় করে যেতাম।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, দেশের সকল স্তরের মানুষকে সব ধরনের ভেদাভেদ ভূলে গিয়ে এই স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট জালিম সরকারকে গণবিস্ফোরনের মাধ্যমে পতন ঘটিয়ে দেশে সুষ্ঠ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান যে সরকার রয়েছে এই সরকার দিগন্ত বা আমার দেশ খুলে দিবে এটা ভাবা উচিৎ নয়।
তিনি আরো বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে ভালো ভাবে সভা সেমিনার করলে চলবে না যেমন কুকুর তেমন মুগুর লাগবে। তাহলেই অধিকার আদায় সম্ভব।
জামায়াতকে রাষ্ট্রের কাছে পরিষ্কার ভাবে ক্ষমা চাওয়া আহ্ববান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, জামায়াতের পূর্ব পুরুষেরা ভূল করলে তার খেসারত তো বর্তমান নেতা কর্মীরা দিতে পারে না। তাই নতুন ভাবে চিন্তা করে তাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দিগন্ত সহ সকল বন্ধ মিডিয়া খুলে দেওয়া জরুরি।
বিশিষ্ট কলামিষ্ট ফরহাদ মাজহার বলেছেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংশ করে দিয়েছে। ব্রিটিশরা একশত বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে যতটা না পিছিয়ে দিয়ে ছিল।শেখ হাসিনা এবং তার দল তার চেয়ে বেশি পিছিয়ে দিয়েছে। যার জন্য তার ক্ষমা নেই। তাই নৈতিকতার বিভক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। এ রকম অন্ধকারে অনেক জাতিই পড়েছে। আবার শেষ পর্যন্ত তাদেরই সেই অন্ধকার থেকেই বিজয় এসেছে।
নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন বলেছেন, দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধ রেখে সরকার গনমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতে পারে না। যে টেলিভিশনের সাথে পাঁচ হাজার পরিবার জড়িত। তারা সরকারকে কিছুই দিতে না পারলেও প্রান ভরে দোয়া করবে। যা কোন একদিন তার কাজে আসতে পারে। তারা হয়তো এখন এটা ভাবছে না।
প্রতিবাদ সংহতি সম্মিলনে আরো বক্তব্য রাখেন, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম (বীর প্রতিক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ূয়া, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।
এমএ/এমআর





