বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি।
তিনি বলেছেন, জনগণের সামনে বঙ্গবন্ধুর সব চিহ্নিত খুনিদের পাশাপাশি এই নৃশংস ঘটনার ইন্ধনদাতাদের মুখোশও উন্মোচন করতে হবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি কমিশন গঠন করতে হবে।
মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফেরত আনার পদক্ষেপ' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
নাসিম বলেন, কমিশন গঠনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের সংগঠিত করে খুনিরা যেসব দেশে পালিয়ে আছে, সেগুলোর ওপর চাপ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। এই খুনিদের সবার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
সভায় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে সরকার একটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কমিশনের আওতায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পাশাপাশি জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কমিশনের কাজ হবে পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এবং ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যার নেপথ্যে জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করা। কমিশনে কারা থাকবেন এবং এর কার্যপরিধি কী হবে, তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।
আনিসুল হক বলেন, কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ড নেই। দেশটি বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে রাজনৈতিক আশ্রয়ও দেয়নি। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কানাডার সঙ্গে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। একটু সময় হয়তো লাগবে। কিন্তু কানাডা সরকার তাকে ফেরত দেবে। আরেক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্য চারজন খুনির খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকার তাদের খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আয়োজনের আগেই যে দু'জন হত্যাকারীর অবস্থান জানা গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
এসএম





