আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা, পুলিশি হয়রানি, গণগ্রেফতার উপেক্ষা করে রাজধানী বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ অব্যহত রেখেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

প্রতিদিনই তারা যাচ্ছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে। সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের ৪ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় মো: মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে গণসংযোগ ও পথসভা করেন কাউন্সিলর প্রার্থী লস্কর মো. তসলিম।

এই গণসংযোগে আরো উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারুল করিম, আলাউদ্দিন মোল্লা, কামাল উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসাইন, ডা. মুজাহিদুল ইসলাম, আহসান হাবীব প্রমুখ।

এ সময় বিপুল সংখ্যাক স্থানীয় ভোটার তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মো: মোবারক হোসাইন বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সিটি নির্বাচন অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জনগণ সৎ ও ন্যায়পরায়ণ প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের প্রত্যাশিত প্রার্থীই বিজয়ী হবেন। কিন্তু যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নির্বাচনী প্রচারণায় পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এভাবে বিজয়ী হওয়া যাবে না। জনগণ শত বাধা উপেক্ষা করেই তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। তিনি এলাকার সমস্যা সমাধান করে উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে লস্কর মো. তসলিমকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী লস্কর মো. তসলিমের ঠেলাগাড়ি প্রতিকে গণজোয়াড় সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রতিটি কর্মসূচি ও প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করছেন।

পল্টন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আনজুমান আরা রব। মো: মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন মাহফুজুর রহমান, জসিম উদ্দিন, আব্দুল রাজ্জাক, মোতাকাব্বির, তামিম হোসাইন, বখতিয়ার সিদ্দিকী, ইমদাদুল হক জাহিদ প্রমুখ। সেখানেও পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মো: মোবারক হোসাইন।

তিনি বলেন, বিপুল জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর লোকেরা বারবার আনজুমান আরা রবের সমর্থকদের উপর হামলা করছে। তার প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সমর্থকদের মারপিট করা হয়েছে। কোনো প্রকার মামলা না থাকলেও তার সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাটাচামুচ প্রতিকে ভোট দিয়ে আনজুমান আরা রবকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে, কাউন্সিলর প্রার্থী আনজুমান আরা রবের পক্ষে প্রচারণার সময় এনামুল হক শামীমকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তিনি স্থানীয় বটতলা মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। অন্যদিকে পল্টন টাওয়ারের সামনে ব্যানার টাঙানোর সময় আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পল্টন থানা পুলিশ।

কদমতলী এলাকায় ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাফেজ আহমাদ হাসানকে উপরের নির্দেশের কথা বলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা খানমের লোকজন।

সকাল ১০টায় হাফেজ আহমাদ হাসানের নির্বাচনী অফিসে গিয়ে তারা বলে, এখানে আওয়ামী প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকেই নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এ সময় তারা হামলা করে দু’জনকে আহত করে এবং একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তারা সেখান থেকে কাঁটাচামুচ প্রতিকের পোষ্টার ও লিফলেট নিয়ে যায়। এছাড়া ঐ এলাকায় হাফেজ আহমাদ হাসানের পোষ্টার লাগাতে গেলে তাদের বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এদিকে সেখানে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে এলাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

মিরপুর এলাকায় ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এ্যাডভোকেট এনায়েতুর রহমানের নামে দু’টি মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার মালামালও ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পুলিশ দু’দফা তার বাড়িতে অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে আসাদুজ্জামন, বদিউজ্জামানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া তার নির্বাচনী এলাকা কাজীপাড়ায় তার সমর্থনে কাঁটাচামুচ প্রতিকের লিফলেট বিতরণকালে আতাউল্লাহ ও রুহুল আমিন নামে দুই সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আদাবর এলাকায় সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ২৯, ৩০ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কাওসার জাহানের শিলপাটা মার্কার নির্বাচনী প্রচারণাকালে সেখান থেকে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুলিস্তান এলাকা থেকে ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আনজুমান আরা রবের পক্ষে প্রচারণার সময় দু’জন কর্মীকে আটক করা হয়। তাদেরকে থানায় নিয়ে পরে ছেড়ে দেয়াহ হয়েছে। এছাড়া পল্টন টাওয়ারের সামনে থেকে দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ২, ৩ ও ৪ নং আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী শামিমা আক্তারের প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী ও মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি আনিসুর রহমানের কর্মীরা। এ সময় তারা শামিমা আক্তারের গ্লাস প্রতিকের সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের বেশ কয়েকজনকে আহত করে।

কেএইচ