দেশকে শাসকদল সন্ত্রাসের অভয়ারন্যতে পরিণত করেছে এমন মন্তব্য করে মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষ এখন ঘরে-বাইরে আর কোনভাবেই নিরাপদ বোধ করছে না।
শনিবার দুপুওে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিনা ভোটের এমপি’রা, শাসকদলের ক্যাডাররা সারাদেশে যেভাবে তান্ডব ও নৈরাজ্য বিস্তার করছে-তাতে এখন মায়ের পেটের শিশু যেমন নিরাপদ থাকেনি, সাধারণ মানুষসহ অবুঝ শিশুরাও তাদের সন্ত্রাসের শিকারে পরিণত হচ্ছে প্রতিদিন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল গাইবান্ধা’র সুন্দরগঞ্জে বিনা ভোটের এক এমপি প্রত্যুষে পাখী শিকারের মতো গুলি করে এক শিশুকে পঙ্গু করে দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে আমাদের দল। এছাড়া গাইবান্ধা’র গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য শাহ আলম-পিতা মৃত আজিজুল হককে গত বৃহস্পতিবার রাতে জবাই করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। শাসকদলের দুর্বৃত্তপনা, অস্ত্রবাজী, টেন্ডারবাজী, দখলবাজীর দৌরাত্বে আজ সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
দেশে সুশাসনের কোন বালাই নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা-দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অসহায় হয়ে পড়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অপরদিকে সরকার বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে এবং ক্রমেই একদলীয়-কর্তৃত্ত্ববাদী শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার পথে অগ্রসর হচ্ছে।
আপনারা জানেন, আমাদের দল পূণর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সারাদেশে গ্রাম-ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে যে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে-তাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সরকার কখনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্বিচারে ব্যবহার করছে এবং এর পাশাপাশি দলীয় ক্যাডারদের নামিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের কাউন্সিল অনুষ্ঠানে হামলা করছে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, শাসকদলের প্রধান বিদেশে বসে ‘২০১৯ সালের পূর্বে নির্বাচন নয়’-এ কথা বলার পর শাসকদলের দূর্বৃত্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা বলতে চাই-শাসকদলের বেপরোয়া সন্ত্রাসে জনগণের জীবনে আজ নাভিশ্বাস উঠেছে। এর ফল শুভ নয়।
কতৃত্ববাদী শাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির প্রেক্ষাপটে দেশের নাগরিকবৃন্দ এখন নিরাপত্তাহীন। গত কয়েকদিনে একজন ইতালীয় অপরজন জাপানী নাগরিকের নিহত হওয়ার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা করি এবং দোষীদের ধরে বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদানের দাবী জানাচ্ছি।
ড. রিপন বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি-সরকারের মন্ত্রী-সরকার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন প্রচারমাধ্যম-বিরোধী দলের দেয়া বক্তব্য-বিবৃতি বিকৃত করে প্রকাশ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অর্থাৎ আমরা যা বলছিনা-তা তারা নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ভিন্নভাবে প্রচার করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার ঘনিষ্ঠ এসব প্রচারমাধ্যমের প্রতিনিধিও আমাদের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থেকে তথ্য বিকৃতি ঘটাচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আমরা আশা করবো, বিরোধী দল হিসেবে আমরা যখন গণতন্ত্র-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত তখন গণমাধ্যমের কাছে আমরা আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ





