তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় নয় অভিহিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতন তারই ধারাবাহিকতার অংশ।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউশনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৪৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলেও তিনি বক্তব্য রাখেন নি। দর্শক সারিতে বসে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচকদের বক্তব্য শোনেন।
তিনি আরও বলেন, এই আধিপত্যবাদি শক্তি মনে করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক জিয়া পরিবার তাই। তারা বারবার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে এদের প্রতিহত করার।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে সফল করে গণতন্ত্র পুনরোদ্ধার করে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেইজন্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বেঁচে থাকলে দেশের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্খাও বেঁচে থাকবে। তাই তাদেরকে নির্মূলের মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণ করতে চায় সরকার। কিন্তু তাদের এ আশা জনগন কোনদিনই বাস্তবায়ন হতে দেবেনা।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারো দয়া অনুগ্রহে রাজনীতিতে আসেননি। তিনি গণতন্ত্রের প্রয়োজনে দীর্ঘকাল লড়াই সংগ্রাম করে এদেশের জনগনের নেতৃত্বে এসেছেন। তারেক রহমানও সেই চেতনা ধারণ করেছেন। আমরা আর তাকে (তারেক রহমান) দূরে দেখতে চাইনা।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে আপনারা তারেক রহমানকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, দেশে গণতন্ত্র ফিরে পেতে চান, মানুষের অধিকার আদায় করতে চান তাহলে রাজপথে নেমে আসুন। আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ুন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম নির্বাচন নিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, এইচটি ইমাম তার বক্তব্যের মাধ্যমে ৫
জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমাদের অভিযোগ সত্য প্রমান করেছেন। তিনি এখন যাই বলেন না কেন, তিনি যে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছেন ভবিষ্যতে সেই জবানবন্দির আলোকে মামলা করা হবে।
ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নামে মানিলন্ডারিং মামলা করা হতে পারে জানিয়ে হান্নান শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সন্তান ও উপদেষ্টা জয়ের বেতন নাকি দুই লাখ ডলার। এটা দেশের জনগনের টাকা। ভবিষ্যতে এর জন্য মানিলন্ডারিং এর মামলা করা হবে।
এসময় তারেক রহমান বিদেশে কোন টাকা পাচার করেনি দাবি করে, সরকারের অভিযোগ প্রমান করতে পারলে ৫ লাখ টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে তারা মিডিয়ার উপর দলনপীড়ণ চালিয়েছে। বহু গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। মাহমুদুর রহমানের মতো সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। সর্বত্র ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসী চাঁদাবাজীতে জনগন অতিষ্ঠ। দেশের এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সবাইকে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
এমএইচ





