বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
সেই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং সরকারের তীব্র বাধা উপেক্ষা করে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ প্রতিটি কর্মসূচীতে রাজধানীসহ সারাদেশের জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসায় তাদের অভিনন্দন জানান।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মহানগরী আমীর বলেন, আওয়ামী সরকার একদিকে গণহত্যা চালিয়ে বাংলাদেশের সবুজ জমিনকে রক্তে রঞ্জিত করছে, অপরদিকে প্রতিদিনই কোন প্রকার মামলা ছাড়া বিরোধী নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার, জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে গোটা দেশকে এক বৃহৎ কারাগারে পরিণত করেছে।
সরকারের মন্ত্রী-এমপি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কিছু অতি-উৎসাহী কর্মকর্তার উষ্কানিতে প্রতিদিনই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ মানুষও এই নির্বিচার হত্যাকান্ড থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোন রাজনৈতিক দল বা সরকার রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বুকে গুলী চালাতে বাধ্য করতে পারে না। এ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সংবিধান মানে না। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, চীন, কানাডাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেও সরকার তা অগ্রাহ্য করে কেবল দেশবাসীর সামনেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনেও নিজের স্বৈরাচারী চেহারা উম্মোচন করেছে। সার্বজনীন মানবাধিকারের পদদলিত করার মাধ্যমে সরকার কার্যত বিশ্বসম্প্রদায় থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মহানগরী আমির বলেন, ফ্যাসিবাদের বর্বর আঘাতে দেশের গণমাধ্যমগুলোও আজ আক্রান্ত। সত্য কথা বলায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া একুশে টিভি, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি এবং প্রিন্ট মিডিয়া আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সরকার সমর্থিত চ্যানেলগুলোতে কঠোর সেন্সর জারি করে রাখা হয়েছে।
মিডিয়ার বাকরোধ করা অপকৌশল হিসাবে গণমাধ্যম নীতিমালা করেই সরকার ক্ষান্ত হয়নি প্রধানমন্ত্রী, তথমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিদিনই বিরোধী দলের কর্মসূচী সম্প্রচার ও টক শো প্রচারের বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতি হুমকি দিচ্ছেন। বিগত ৪২ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের উপর এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকান্ড বাকশালের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
কিন্তু দেশের দু’য়েকটি ছাড়া সবগুলো গণমাধ্যম বন্ধ করেও বাকশালের যেমন শেষ রক্ষা হয়নি তেমনি বর্তমান সরকারের পরিণতি ও বাকশালের মতই হতে চলেছে। দেশের মানুষ ও সাংবাদিক সমাজ রাষ্ট্রীয় সেন্সরশীপের ভয়াল থাবা থেকে মুক্তি চায়।
জনাব খান আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আ্ওয়ামী লীগ র্কাযালয় থেকে প্রেটল বোমা উদ্ধার করা হলেও এসব দলীয় ক্যাডারদেও আটক করা হচ্ছেনা। উল্টো বিরোধী নেতা-কর্মীদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে সামনে বোমা সদৃশ সরঞ্জাম সাজিয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলা দেযা হচ্ছে।
বোমাবাজ ধরিয়ে দেয়ার পুরষ্কার হিসেবে ছাত্রলীগের ক্যাডরদের হাতে পুরষ্কারের টাকা তুলে দিয়ে সরকার নবতর নাশকতার অর্থায়ন করছে। বন্দুকযুদ্ধ আর ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে সরকার তার অনিবার্য পতন ঠেকাতে পারবেনা। আটক নেতা কর্মীদের পুলিশ হেফাজতে পায়ে গুলি চালিয়ে এই বাহিনীর সদস্যরা ভিনদেশী চক্রান্ত বাস্তবায়ন করে জাতির যুবশক্তি ও গণপ্রতিরক্ষার ভিত্তিমূলে আঘাত হানছে।
আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মহানগরী আমীর বলেন, বেপরোয়াভাবে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে, মানুষের রক্তে পবিত্র জমিনকে রঞ্জিত করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে না। পৃথিবীর কোন স্বৈরাচারী শক্তিই জনগণের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতার মসনদে বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি।
২০ দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসে সরকারকে রেড সিগনাল জানিয়ে দিয়েছে। নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষ হত্যা থেকে বিরত হয়ে অবৈধ সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমে এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের টিকে থাকার এখনও সময় আছে।
নচেৎ পুলিশের আটক বাণিজ্য, লাগামহীন দূর্ণীতি, সারাদেশে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে অতিষ্ট জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে তীব্র গণ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ইতিহাসের আস্তাকূড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
মহানগরী আমীর বলেন, সরকারের তীব্র বাঁধা, হুমকি-ধমকি, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও আজ রাজধানীর খিলগাঁও, উত্তরা, যাত্রাবাড়ি, সবুজবাগ, মগবাজার, মহাখালি, মৌচাক, পল্টন, মতিঝিল, কোতয়ালী, সূত্রাপুর, রমনা, তেজগাঁও, শনির আখড়া, কদমতলীসহ বিভিন্ন থানা ও এলাকায় অবরোধ সমর্থনে জামায়াতের কর্মীরা মিছিল, পিকেটিং ও রাজপথ অবরোধ করে।
জনগণের এ আন্দোলন বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করতে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাংবাদিক, শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক ও ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান।
এছাড়া অবৈধ সরকার পতনের দাবীতে ২০ দলের আহ্বানে চলমান অবরোধ এবং ২য় দফা ৪৮ ঘন্টা লাগাতার হরতালের ২য় দিন প্রতিটি কর্মসূচীতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরবাসীকে অভিনন্দন জানান মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
সেই সঙ্গে গনতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসাবে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল এবং লাগাতার অবরোধসহ সকল কর্মসূচী সফল করতে রাজধানীর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে মাঠে নেমে আসার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহ্বান জানান।
এসএইচ





