পচাত্তরের পনেরই আগস্টের কথা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সে দিন প্রতিরোধ করতে পারি নাই। তাই ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলার সুযোগ পান।আমি বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচারের একজন প্রসিকিউটর হিসেবে বলবো, বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সদস্যরা কাপুরুষ ছিল, তাই তারা খন্দকার মোস্তাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিল কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়।
তিনি বলেন, সে সময় সেনা-বিমান-নৌ বাহিনী পুলিশ বিডিআর নপুংশকের মতো খুনিদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন।
মন্ত্রী সভার সদস্যরা নপুংশককের মতো খুনি মোশতাকের পক্ষ অবলম্বন করেছে। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সদস্যরা হত্যা কান্ডে জড়িত নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে জিয়াউর রহমান।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডি প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী সভার সদস্যরা জড়িত’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতির জনক হত্যার মূল হোতা জিয়াউর রহমান। মামলার সাক্ষী, তদন্ত ও প্রসিকিউশনে উঠে এসেছে। আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশিদদের টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাতকারে উঠে এসেছে জিয়ার জড়িত থাকার বিষয়।
জঙ্গীদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং মির্জা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহবান জানান খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, দেশের চলমান জঙ্গি তৎপরতার পেছনে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ইন্ধন যোগাচ্ছে।
‘যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তারা জঙ্গি কী না সন্দেহ আছে’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই কথার বলার মধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে, জামায়াত তো জঙ্গিদের পেছনে আছেই। বিএনপি ও খালেদা জিয়া জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বাংলাদেশের জঙ্গিদের পেছনে যে রাজনৈতিক শক্তি ইন্ধন যোগাচ্ছে, সেই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি-এই কথা প্রমাণিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে বলছেন, এরা জঙ্গি কিনা সন্দেহ। এটা পরিস্কার বিএনপি এর পেছনে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাবো এদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর ব্যবস্থা করুন। শুধু জঙ্গি নির্মুল করতে হবে না। এদের পেছনে কারা তাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে। জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা দেখতে চায়। এদেরকে আর ছাড় দেয়ার সুযোগ নাই।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জঙ্গি নির্মূলের যে পদ্ধতি সে পদ্ধতি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবলম্বন করছে। কোথাও দেখবেন না জঙ্গিদের বিচারে সোপর্দ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সর্বহারাদের দেখেছেন, এখন আর সর্বহারা নেই। জঙ্গি দমনে সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশও একই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
৩০ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভার প্রস্তুতি হিসেবে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগরের সাবেক নেতা আব্দুল হক সবুজ প্রমুখ।
এসএম/ইআর





