গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচনের সময় সরকার ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
ইসি আয়োজিত রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে বুধবার গণফোরামের সঙ্গে বৈঠক হয়।
রাজধানীর আগারগাওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। সংলাপে অংশ নিয়ে গণফোরামের পক্ষ থেকে ২২ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়।
সংলাপ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গণফোরামের পক্ষ থেকে গণপ্রতিনিধ্বি আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্র বাহিনীকে অন্তুভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের সময় সরকার ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার বিষয়টিও নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জনগণের ঐক্যের কথা উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক এটা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে সুষ্ঠু হতে হলে নির্বাচন চলাকালীন প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী দলীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। দলীয় সরকার বদলি, পদায়নসহ অনেকগুলো কাজ করবে না। গণফোরাম সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, প্রার্থীরা নির্ভয়ে জনগনের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারে সেই পরিবেশ চায়।
তিনি বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন হতে না দিলে জনগণ বঞ্চিত হয়। এতে ফলাফল এক তরফা হয়ে যায়। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ হয় সেটাও অকার্যকর হয়।
প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, এক দলের লোক আইনের উর্ধ্বে থাকবে আর প্রতিপক্ষ সব রকমের আইনী হয়রানির শিকার হবে-এটা আইনের শাসন নয়। সরকারি দলের জন্য আইনের এক ধরনের প্রয়োগ আর বিরোধী দলের জন্য অন্য ধরনের প্রয়োগ তা হয় না। সাংবিধানিকভাবে সরকারের নিরপেক্ষভাবে দেশ পরিচালনার কথা কিন্তু বাস্তবে সেটা হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই ভোটের পক্ষে গণফ্রন্ট
ইসির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে গণফ্রন্ট। একই সঙ্গে তারা নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ইভিএম চালু, ধর্মবিরোধী দলের নিবন্ধন বাতিল, সংসদীয় আসন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
দলটির চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গণফ্রন্টের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন।
অক্টোবরেই শেষ হবে সংলাপ
আগামী ১৮ অক্টোবর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির সংলাপের মধ্য দিয়ে শেষ হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ। এর আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে ১৫ অক্টোবর বসতে যাচ্ছে ইসি।
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের পরে কমিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করবে। আগামী মাসের মধ্যেই কমিশন এসব সংলাপ শেষ করবে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গত জুলাইয়ে সংলাপের উদ্যোগ নেয়। ৩১ জুলাই দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শুরু হয়।
এরপর ১৬ ও ১৭ আগস্ট কমিশন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু হয় ২৪ আগস্ট। বুধবার পর্যন্ত ১৬টি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করেছে। এছাড়াও আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত আরো আটটি দলের সঙ্গে সংলাপের সময় নির্ধারণ করেছে কমিশন।
এমএ





