দীর্ঘ দুই বছর এক মাস ১৭ দিন কারাবন্দি থাকার পর আজ সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে হুইলচেয়ারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৬তলা কেবিন ব্লক থেকে নিয়ে আসা হয় তাকে।
এরপর হাসপাতালে অপেক্ষমাণ গাড়িতে (ঢাকা-মেট্রো-ভ ১১-০৬৯২) করে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’র দিকে রওনা দেন খালেদা জিয়া।
হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি পরা খালেদা জিয়াকে দেখা গেছে পুরোনো সেই চশমায়। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে তার মুখে ছিল মাস্ক।
দীর্ঘদিন পর নেত্রীর মুক্তির খবরে হাসপাতালে ভিড় জমান বিএনপির হাজারও নেতাকর্মী। হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনেকে অপেক্ষা করেন খালেদা জিয়াকে একনজর দেখতে।
করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতার কথা বলে পুলিশ সদস্যরা বারবার সতর্ক করলেও কোনোভাবেই নেতাকর্মীদের সেই ভিড় কমানো যায়নি।
অবশেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাইক হাতে নেতাকর্মীদের ভিড় কমানোর ঘোষণা দিলে এতেও কোনো কাজ হয়নি।
খালেদা জিয়া গাড়িতে ওঠার সময় গাড়ির চারপাশ ঘিরে নেতাকর্মীরা “খালেদা, খালেদা, জিয়া, জিয়া, আমার মা, আমার মা” স্লোগান দিতে থাকেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, “২ বছর পর নেত্রীর মুক্তি আমাদের জন্য খুব আবেগের। আমরা একনজর ওনাকে দেখতে এসেছি।”
গতকাল (মঙ্গলবার) বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না- এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানার পর থেকে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী ও খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
বুধবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল তিনি মুক্তি পাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশের নথি বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়।
বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আজ দুপুর ১২টার দিকে ওই নথি আমাদের কাছে এসেছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন তৈরি করে কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠাবে। এর পরই ওই ফাইল কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলাতেও তার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ০১ এপ্রিল থেকে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়া।
এমবি





