সরকারের মদদপুষ্ট ও বিতর্কিত ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রদত্ত প্রহসনমূলক রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখাকে সরকারের সাজানো ছক উল্লেখ করে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন ও সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটি বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ, কলঙ্কিত ও সরকারের মদদপুষ্ট ট্রাইবুনালের প্রহসনমূলক রায় আপীল বিভাগ বহাল রেখে দেশের জনগণকে আবারো হতাশ করেছে। রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই ন্যায়ভ্রষ্ট রায় বহাল রাখা হয়েছে বলে মনে করে বিবেকবান জনগণ। একটি মহলের ইশারায় একের পর এক জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু আপিল বিভাগ থেকে মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায় যে ন্যায়ভ্রষ্ট তা বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ধাপে প্রমাণিত হয়েছে। যাদের সাক্ষীতে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে তাদের একজন ৭ কিলোমিটার, একজন ৩ কিলোমিটার আরেকজন দেড় কিলোমিটার দূর থেকে অপরাধকর্মে আজহারুল ইসলামকে সম্পৃক্ত হতে দেখেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তারা নিহতদের গ্রামের বাসিন্দা বা আতœীয় স্বজনও নয়। এমন নির্লজ্য মিথ্যা সাক্ষীর উপর কোন আসামীর মৃত্যুদন্ড হতে পারে তা সুস্থ-বিবেকবান মানুষ বিশ্বাস করতে পারেনা। তাছাড়া প্রসিকিউসনের পক্ষে ১৮জন সাক্ষীকে অনুমতি দেয়া হলেও আসামীর পক্ষে মাত্র ৪জনকে সাক্ষ্য দিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউসন ও তদন্ত সংস্থাকে দেড় বছর সময় দেয়া হলেও আসামী পক্ষকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৪ সপ্তাহ। এই মামলা সেই সময় আমলে নেয়ার জন্য বলা হয়েছিল যখন বিচার বিভাগের ইতিহাসের কালো অধ্যায় স্কাইপি ক্যালেঙ্কারীর ফাঁস হয়েছিল এবং এই ক্যালেঙ্কারী দায় মাথায় নিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেছিলেন।

নেতৃবৃন্দ যেকোন সংকির্ণতা ও প্ররোচণার উর্দ্ধে উঠে ন্যায়বিচারের স্বার্থে নির্দোষ এটিএম আজহারুল ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে আদালতের প্রতি আহবান জানান।

এএইচ