‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রক্তের উপর দাড়িয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এমন বক্তব্যের জন্য তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা ‘নাসির উদ্দিন পিন্টু’র মুক্তি ও তাকে মেয়র হিসাবে দেখতে চাই’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্মিলিত নাগরিক কমিটি।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের জোরে নয়, সিপাহী জনতা স্বতস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমেই জিয়াউর রহমানকে এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তার হাতে এদেশে গণতন্ত্রের ফুল ফুটেছিল। তিনি এদেশের জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
বরং এরশাদই অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনিই অস্ত্রের মুখে রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন। এরপর আবার জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরশাষক হয়েছিলেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ‘ষড়যন্ত্রকারী দল’ হিসেবে অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ দলটি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই জনগণকে বিভ্রান্ত করে অধিকার হরণের মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে।’
আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, হাসানুল হক ইনু, কামরুল ইসলাম সাহেবদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, দেশ তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। যা ইচ্ছা তা বলবে, করবে।’
আওয়ামী লীগ দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যক্তিগত বাহিনীর মতো ব্যবহার করছে। এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারেনা।’
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের আড়ালে রেখে মামলার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ মূখপাত্র। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীনদের এক মন্ত্রীর জামাই অভিযুক্ত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আরও নাম বেরিয়ে আসবে।’
সরকার পরাজয়ের ভয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দিচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জানে নির্বাচন দিলে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের মতো তাদের শোচনীয় পরাজয় হবে।’ এই মুহুর্তে জাতীয় নির্বাচন দিলে ক্ষমতাসীনরা ২০টি আসনও পাবেনা বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা বলয় ভেঙে দিতেই ষড়যন্ত্র করে সেদিন বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছিলো। যাতে এ বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহ দমন না বিদ্রোহীদের সঙ্গে আতাত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা, তালপট্টি দ্বীপ উদ্ধার করা এবং সমুদ্রসীমা রক্ষা করার জন্য।’ সেই আন্দোলনে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ মূখপ্রাত্র বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সব দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।’
সংগঠনের সভাপতি হাজী আনোয়ার পারভেজ বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, কমিশনার সাঈদা মোর্শেদ, রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ১২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর





