বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘দলীয় সংকীর্ণতা এবং হীন চক্রান্তের কালো থাবার শিকার ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস। ৫২’র আন্দোলনে অগ্রভাগে অবতীর্ণ ব্যক্তিগণ আজ উপেক্ষিত।

পক্ষান্তরে তৎকালীন আন্দোলনে ভূমিকা না রাখা ব্যাক্তিদেরকে আজ সম্মানিত ও পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। মাতৃভাষার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন এবং লড়াইয়ের ময়দানে সংগ্রামী ভূমিকা রেখেছেন তাদেরকে সকল সংর্কীণতার উর্ধে উঠে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে’

তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামণা করেন এবং শহীদদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্টানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ফরিদ হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, মহানগরী শুরা সদস্য খন্দকার আবু ফাতেহ ও মহানগরী শুরা সদস্য মাও: আমীরুল ইসলাম প্রমূখ।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ভাষা’র অর্জন ও শহীদদের আত্মত্যাগ আজ বিকৃতির পথে। মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার দাবিতে নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জীবনদানের ঘটানা পৃথিবীতে বিরল। কিন্তু আফসোস আমরা ফেব্রুয়ারি এলেই শুধু ভাষা জয়গান গাই, অন্যসময় ভাষার উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রাখতে ভুলে যাই।’

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম এবং তার সংগঠন তমদ্দুন মজলিস। আর এই তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে দেশের আপামর তৌহিদী জনতা ইসলামী তাহযিব-তামাদ্দুন রক্ষার অংশ হিসেবে ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে সমবেত হয়েছিল।

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। ডাকসুর তৎকালীন জিএস হিসেবে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তৎকালীণ সরকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে স্বার্থন্বেষী সরকার মহল বিশেষের প্ররোচণায় অধ্যাপক গোলাম আযমের সেই অসামান্য অবদানের মূল্যায়ন করতে চায় না। ’

তিনি আরো বলেন. ‘ভাষা আন্দোলনই পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার।’ তিনি নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জনগন ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করেছে এদেশের সরকারেরই বিরুদ্ধে। ঠিক একই ভাবে বর্তমানে জনগনের ন্যয্য দাবি আদায়, বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার এবং একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ইসি গঠনের মাধ্যমে অবাধ-স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি আদায়েও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ।’ তিনি জনগনকে সে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান। 

ফরিদ হোসাইন বলেন, ‘ভাষা’র ইতিহাসের সাথে ইসলামপন্থীদের ভূমিকা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভাষার মাধ্যমেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ সাধন হয়ে থাকে। আদালত থেকে মন্ত্রণালয় সকল ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তৌহিদী জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ৫২’তে যেভাবে মাতৃভাষা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিলো তেমনি বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের জুলুম থেকে মুক্তির জন্যও তৌহিদী জনতাকে একত্রে রাজপথে নামতে হবে।’

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘বাংলা ভাষা অতি প্রাচীন একটি স্বতন্ত্র ভাষা। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এই ভাষার সাথে আরবী-ফার্সি সহ অন্যান্য ভাষা মিলে মিশে এ ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। শাসক গোষ্ঠীর বন্দুকের নলের মুখে জীবন দিয়ে আমরা মাতৃভাষা রক্ষা করেছি। শাসক গোষ্ঠীর ডাকা কারফিউ ভঙ্গ করে ছাত্র-জনতার মিছিলের সিদ্ধান্ত যে সভা থেকে নেয়া হয় সে সভায় উপস্থিত থেকেও কমরেড তোহা মিছিলের পক্ষে মতামত না দিয়ে চুপ ছিলেন। আর আজ কমিউনিস্টরা ক্রেডিট নেয়ায় ব্যস্ত!’

তিনি উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম ও সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড বাধ্যতামূলকভাবে বাংলায় করার দাবি জানান।

আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের কল্যাণ কামণা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল।(বিজ্ঞপ্তি)

এমবি