আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা কেন্দ্র (Global Rohingya Cente-GRC)-এর তিন স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার ইসলামী সংগঠন 'মালয়েশিয়ান কনসালটেটিভ কাউন্সিল অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন (Malaysian Consultative Council of Islamic Organizations)।
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এই তিন সদস্য ও তাদের দুই বাংলাদেশী সহযোগীসহ ৫জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অর্থের জোগানদানের অভিযোগ আনা হয়।
মালয়েশিয়ার ইসলামী সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবাদ বার্তায় অভিযোগ করা হয় বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের আটক করেছে।
প্রতিবাদ বার্তায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা কেন্দ্র-জিআরসি ইতিমধ্যেই একটি বৈধ সংগঠন হিসেবে নিজেকে প্রমান করেছে। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য ত্রান কার্য পরিচালনায় এই সংগঠনটি কাজ করে থাকে।
এতে বলা হয়, উদ্বাস্তুদের নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে যখন বাংলাদেশ সরকার হিমশিম খাচ্ছে তখনই জিআরসি সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। অথচ রহস্যজনকভাবে এই সংগঠনটির প্রতিই সরকার বিরুপ আচরণ করলো।
বিশ্বের অন্যতম নির্যাযিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম দেশে বসে যদি ত্রান কার্যক্রম না চালানো যায় তাহলে সেটা হবে অত্যন্ত হতাশাজনক একটি বিষয়।

কোন যুক্তিতে এই তিন স্বেচ্ছাসেবীর প্রতি সহিংসতার মদদের অভিযোগ আনা হলো-বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এমন আহবান জানিয়ে প্রতিবাদ বার্তায় আরও বলা হয়, এটা খুবই আশ্চর্যজনক বিষয় যে জিআরসির পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও সংস্থাগুলো আটককৃতদের বিরুদ্ধে নানা অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করছে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সরকার যেই সুস্পষ্ট নির্যাতন চালাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারও কেন সেরকমই আচরণ করছে সেই প্রশ্নও রাখা হয় প্রতিবাদ বার্তায়।
এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের ভেতরে ও বাইরে চরমভাবে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের এই আচরণ যেন অকল্পনীয়।
প্রতিবাদ বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালে মিয়ানমারের রাখাইন সন্ত্রাসীদের হাতে হামলার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসলে তাদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এমনকী অসহায় নারী ও শিশুদের পর্যন্ত আশ্রয় না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
বার্তায় বলা হয়, যে কোন অসহায় মানুষকে সহায়তা করা একটি মানবিক ব্যাপার। অথচ একটি মুসলিম দেশ হয়েও জীবন বিপন্ন হতে চলা কয়েকজন অসহায় মুসলিমকে আশ্রয় দেয়নি বাংলাদেশ-এটা খুবই দু:খজনক।
অবিলম্বে আটক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী সদস্য ও তাদের সহযোগিদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়ে প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়, জাতিসংঘ এবং ওআইসির সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উচিত এখানে অসহায় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সহায়তায় যারাই এগিয়ে আসতে চায় তাদেরই কাজের সুযোগ দেয়া।
কেবি





