আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী বলেছেন, খালেদা জিয়ার উপর যারা হামলা করেছে তারা আওয়ামী লীগের কেউ নন। ৯২ দিনের অবরোধে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, যারা অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তাদের স্বজনরাই খালেদা জিয়ার উপর হামলা করেছেন।

গতকাল সোমবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো'তে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এডভোকেট বাপ্পীর কথা ডাহা মিথ্যা বলে একই টকশো'তে তার কথার পাল্টা উত্তরে বিএনপির মুখপত্র ধানের শীষ পত্রিকার সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, বাংলাদেশের সবগুলো টেলিভিশন এবং পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনে প্রমাণসহ বলা হয়েছে খালেদা জিয়ার উপর যারা হামলা করেছে তারা সবাই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মী। কিন্তু এরপরও দলের ফলোয়ার হিসেবে এডভোকেট বাপ্পী তার দলের গান গাইলেন।

এছাড়া এডভোকেট বাপ্পী আরো বলেন, অবরোধে অগ্নিদগ্ধ হয়ে যারা মারা গেছেন তারা তো অবশ্যই খালেদা জিয়ার কাছে এর জবাব চাইবেন। আর হামলার বিষয়ে স্ব-রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে কারা হামলা করেছে।

এর প্রতি উত্তরে ডা: সায়ন্ত বলেন, যারা অগ্নিদগ্ধে মারা গেছেন, এর জন্য কে দায়ী কিনা তা ভবিষ্যতে বের হবে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৬৯ জন আর বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছেন ৬৪ জন। অগ্নিদগ্ধরা খালেদা জিয়ার কাছে জবাব চাইলে গুম-খুনের যারা শিকার হয়েছেন তারা কার কাছে জবাব চাইবে।

তিনি আরো বলেন, স্ব-রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তো বলেছেনই কারো উপর হামলা করা হয়নি।

একই অনুষ্ঠানে দীপ্ত টিভির বার্তা প্রধান নাজমুল আশরাফ বলেন, অবরোধে ক্ষতিগ্রস্থরা খালেদা জিয়ার কাছে জবাব চাওয়া এক জিনিস আর রাজনৈতিক কর্মীরা প্রশ্ন করতে যেয়ে হামলা করা আরেক জিনিস। এছাড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে কারা হামলা করেছে। তাদেরকে বার্ণ ইউনিটের রোগীদের বা ক্ষতিগ্রস্থদের স্বজন বলে মনে হয়নি।

তিনি আরো বলেন, যে প্রার্থীর পক্ষে যে কেউ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারে, প্রচারণায় যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে তার নিরাপত্তা সরকারকেই দিতে হবে।

এছাড়া সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক সামিয়া রুপা বলেন, হামলাকারীরা ক্ষতিগ্রস্থদের স্বজন না কারণ খালেদা জিয়ার উপর হামলা করতে যে রকম সাংগঠনিক শক্তি দরকার তা অবরোধে ক্ষতিগ্রস্থ নিরিহ মানুষদের নেই।

এদিকে আরেকটি টকশো'তে বিএফইউজে'র মহাসচিব এম এ আজিজ বলেছেন, নির্বাচনী যতগুলো আচরণবিধি রয়েছে যার কারণে একজন ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না তার মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া পড়েন না। তাই তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, রোববার উত্তরাতে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে উত্তরা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন এবং সেক্রেটারি হাবিব হাসান ও তাদের নেতাকর্মীরা।

এর পরের দিন সোমবার কাওরান বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় খালেদার জিয়ার উপর হামলা করে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ। এর মধ্যে একজন হলেন জাকির যিনি ২৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়া আরেক জন আলামিন যিনি তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের আওয়ামী লীগ নেতা।

হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩২৬১২) গ্লাস ভেঙে গেছে। এছাড়া তার নিরাপত্তা টিম-সিএসএফের চারটি গাড়িসহ অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় সিএসএফ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

ইআর