সরকার জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার সত্যিকার অর্থে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে চায় না। বরং উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের তকমা দিচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তা প্রমাণ করতে পারেনি।
অথচ দেখা গেছে, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা এবং তাদের লোকজনই জড়িত। শনিবার এক মিলাদ মাহফিলে তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র চলছে। যাতে আওয়ামী লীগ বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে তাদের সেই পুরনো একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করতে পারে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিএনপির মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের রুহের মাগফিরাত কামনায় এই মিলাদ হয়।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুল আওয়াল খান, সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ মিলাদ মাহফিলে শরিক হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দলের বড় দুঃসময়। আজকে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্য। এই ষড়যন্ত্র বসে বসে হচ্ছে না, প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা হুমকি দিচ্ছেন যে, বিএনপিকে নির্মূল করে দেয়া হবে।
একটি গণতান্ত্রিক শক্তি যারা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, সব রকম ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, সেই দলটিকে আজকে নির্মূল করে দেয়া, তাকে একেবারে শেষ করে দেয়ার যে ঘোষণা, আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতা দিচ্ছেন এটা থেকে কিন্তু একটি ষড়যন্ত্রের আভাষ পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। তারা আসলে বিএনপিকে মূল রাজনৈতিক ধারা থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বিষয়টি আমাদের যারা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত আছেন শুধু তারাই নয়, দেশের সমগ্র গণতান্ত্রিক শক্তি ও সচেতন মানুষের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অর্থাৎ তাহলে কী সরকারের উদ্দেশ্য, আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য তারা বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনীতি, সেই রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা আগের যে স্বপ্ন একদলীয় শাসনব্যবস্থা, সেটাকে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং সেটাই তারা ধীরে ধীরে প্রমাণ নিয়ে আসছে।
আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদ নির্মুল চায় না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদের আরো প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। যাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি না ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হচ্ছে। এই বিষয়টিকে হালকা করে দেখার উপায় নেই।
জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীনদের দেওয়া বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা এসব কথা বললেও কখনো তা প্রমাণিত করতে পারেনি। বরং যেসব জঙ্গি ধরা পড়ছে তাদের মধ্যে অনেকে আছেন, যাদের পিতামাতা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের মিথ্যাচার দিয়ে এটি প্রতিরোধ করা যাবেনা বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, সেজন্য জনগণকে শক্তিশালী করতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এবং ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে ফের জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। দলের বর্তমান সঙ্কটকালে নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির সাবেক মহাসচিব সালাম তালুকদারের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছিলেন। আজ ১৭ বছর পর দলের সবচেয়ে বড় দুর্দিনে এই নেতার অভাব অনুধাবন করছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সালাম তালুকদার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা অনুকরণীয় ছিলো।
মরহুম সালাম তালুকদারের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের এমন এক দু:সময়ে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন যখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলছিল। তার দক্ষ এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে শুধু দলকে নয় দেশকেই রক্ষা করেছিলেন। স্বৈরাচারী সরকারকে হটিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, আমাদের নেতা সালাম তালুকদারকে শুধু স্মরণ করবো না, অনুসরণ করব। তিনি সঠিকভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, তখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে স্বৈরাচারকে পরাভুত করা সম্ভব হয়েছিলো। এটাই বাস্তবতা। আজকেও সময় হয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করবার জন্য, তার ভোট দেবার অধিকার রক্ষা করবার জন্য, তার লেখা ও কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষা করবার জন্য আজকে সমগ্রজাতির ঐকবদ্ধ হওয়ার প্রয়াজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসএ





