টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের সহযোগী দুই মহিলা অঙ্গসংগঠন ‘মহিলা আওয়ামী লীগ’ ও ‘যুব মহিলা লীগ’ সাংগঠনিকভাবে তেমন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। টানা এক যুগের বেশি সময়েও সম্মেলন না করতে পারাকেই এর কারণ হিসেবে দেখছে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা।
মহিলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৩ সালের ১২ জুলাই এবং যুব মহিলা লীগের হয় ২০০৪ সালের ১৫ মার্চ। তখন মহিলা লীগের সভাপতি হোন আশরাফুন্নেসা মোশাররফ এবং সাধারণ সম্পাদক হোন ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা। আর যুব মহিলা লীগের সভাপতির দায়িত্বে আসেন নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক হোন অধ্যাপিকা অপু উকিল। ২০০৯ সালে ইন্দিরা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলে সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পিনু খান তার স্থলাভিষিক্ত হোন।
কবে নাগাদ সম্মেলন হতে পারে জানতে চাইলে মহিলা লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেসা মোশাররফ বলেন, মূল দলের সম্মেলনের পরই আমাদের সম্মেলন হবে।
দীর্ঘ এক যুগেও সম্মেলন না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী না বললে তো সম্মেলন করতে পারি না। এবার আমি তাকে বলেছি, তিনি বলেছেন ‘দিয়ে দাও’। এর আগেও আমি সম্মেলনের কথা বলেছিলাম।
এদিকে যুব মহিলা লীগের পরবর্তী সম্মেলনের বিষয়ে নাজমা আক্তার বলেন, সম্মেলনের কোনো খবর নেই। আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পরে হতে পারে।
সম্মেলন বিলম্বিত হওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকমান্ড নির্দেশ দিলে সম্মেলন হবে। হাইকমান্ড নির্দেশ দিলে যেকোনো সংগঠনই সম্মেলন করতে বাধ্য। নতুন সংগঠন, কর্মী তৈরি, শাখা তৈরিসহ সবকিছুই নতুনভাবে করতে হচ্ছে আমাদের। অন্য সংগঠনগুলোর মতো আমরা ‘সেটআপ’ না।
নাজমা আক্তার বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলন তো সামনেই, সেখানে হয়তো আমাদের কাউকে কো-আপ করা হতে পারে। এরপরই হয়তো সম্মেলন করতে বলা হবে।
এছাড়া এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে তাঁতী লীগ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুনের আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।
দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটির নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা আছে। কিন্তু সেটি মানার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা নেই। কেবল মূল দলের ক্ষেত্রেই আরপিও-এর (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সময়সীমা মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কবে নাগাদ সম্মেলনগুলো হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল দলের সম্মেলনের পরপরই এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সহযোগী সংগঠনগুলোকে আরও গুছিয়ে আনা হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, মূল দলের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করলেও সহযোগী সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ছাড়া অন্যগুলোর ক্ষেত্রে তেমন নজর দেওয়া হয় না। আর নেতৃত্ব পাওয়ার পর সহযোগী সংগঠনের নেতারাও তা দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে চান।
এদিকে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২৪ জুলাই। ওই সম্মেলনের আগে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ২০১২ সালের ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ১৪ জুলাই যুবলীগ ও ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের জুলাইয়েই এই তিন অঙ্গসংগঠনের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ।
ইআর/এমআইএস





