২০ দলীয় জোটের চলমান অবরোধে বরিশালের রাজনৈতিক মাঠ দখলে নিয়েছে আ.লীগ। প্রতিদিনই নগরীর গুরুত্বপূর্ন স্থানে অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মিরা। এ সময় তাদের পাশেই থাকেন পুলিশ সদস্যরা। তবে বিএনপি বা ২০ দলের কেউ যাতে মাঠে নামতে না পারে- এ ব্যপারে পুলিশ থাকেন কঠোর অবস্থানে। পাশাপাশি যাতে কোনো ধরণের মিছিল, সমাবেশ বা পিকেটিং না হয় সেদিকেও বিভিন্ন স্থাপনা ও এলাকায় নিয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
অন্যদিকে ভয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ও প্রান্তিক কর্মীরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এমনকি বরিশালে অনুষ্ঠিত আরাফাত রহমান কোকোর গায়েবানা জানাজার নামাজেও অংশগ্রহন করেননি কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো অনেক নেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অবরোধের প্রথম দিন থেকে বরিশাল নগরীর সোহেল চত্বর, টাউন হল, কাকলীর মোড়, নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল, রুপাতলী বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট এলাকার প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। থেমে থেমে তাদের হরতালবিরোধী মিছিল করতে দেখা যায়। এ সময় তাদের পাশেই অবস্থান করেন পুলিশ সদস্যরা। প্রতিদিন অবরোধবিরোধী মিছিল সমাবেশ করেন জেলা ও মহানগর আ’লীগের নেতাকর্মীরা।
এসব সমাবেশে উপস্থিত থাকেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস, সদর আসনের এমপি জেবুন্নেচ্ছা হিরন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম।
সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখা যায়- কাশিপুর বাজার, গড়িয়ারপাড়, রহমতপুর এলাকায়।
এদিকে পুলিশ প্রশাসনও অবরোধকারীদের দমনে গড়ে তুলেছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। সড়কের মোড়ে মোড়ে বসিয়েছে চেক পোষ্ট। সবসময় অস্ত্র তাক করে দৃষ্টি রাখেন চারপাশে। লাঠি হাতে মোটর সাইকেলে টহল দেন তারা। যাতে নগরীর কোথাও কোন পিকেটিং না হতে পারে। অবরোধের সমর্থনে সড়কে নামলেই ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। এর বাইরেও কারণে-অকারণে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের গ্রেফতার করে আতংক ছড়াচ্ছেন জনমনে। বাদ যান না সাধারণ মানুষও।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরি জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বরিশাল নগরিতে তাদের ১২ শ’ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। সরকারের যেকোন নির্দেশ পালনে তারা সচেষ্ট।
অন্যদিকে পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে অধিকাংশ নেতাই আছেন আত্মগোপনে। দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই নেই এলাকায়। দু’ একজন নেতা পুলিশের সাথে সমঝোতা এবং ৪ থেকে ৫ মিনিটের ফটোসেশন শেষ করে ঘরে ফেরেন। তাও আবার নগর কিংবা জেলা শহরের ব্যস্থতম এলাকায় নয় নিরাপদ, নির্জন কোনো গ্রাম্য পথে। এভাবেই চলছে বরিশাল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন।
টানা অবরোধের ২২ দিন পার হয়েছে। ২৩ দিনে বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার, এবায়েদুল হক চান, আবুল কালাম শাহিন, মেসবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও আকন কুদ্দুসুর রহমান, নগরীর গুরুত্বপূর্ন কোন স্পটে এসে মিছিল সমাবেশ করেননি। নেতাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ দাবি করছেন পুলিশ তাদের রাজনৈতিক ময়দানে আসতে দিচ্ছেন না।
বরিশাল নগরীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা সমাবেশ মিছিল নিষিদ্ধ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে একবার মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক এমপি সরোয়ার।
কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগীয়) ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, পুলিশ বেপরোয়া হওয়ায় নগরীর বাইরে গিয়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির নেতা কর্মিদের ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে গণগ্রেফতার ও মামলা করায় মাঠে আসতে পারছে না।
এমআর,জেএ





