রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শিশু নির্যাতন মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।

আজ বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশে মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়া শিশু নির্যাতনে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

গত রবিবার ২ আগস্ট, বিকালে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উজেলার দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামের বোবার মোড়ে শাকিল কাজী নামে এক শিশু ও আবু সামা নামে একব্যক্তিকে চুরির সন্দেহে গাছের সাথে বেধে পিটিয়ে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। ঐদিন মীরপুর ও হাজারীবাগে দুটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

সিলেটে সামিউল আলম রাজন ও খুলনায় রাকিব এবং মাগুরায় মায়ের গর্ভের শিশুও সরকারী দলের জঙ্গিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

গত ৩রা আগস্ট দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পরিত্যক্ত লাগেজের ভিতর থেকে ৯ বছর বয়সের শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এভাবে একের পর এক মায়ের বুক খালি হচ্ছে। সন্তান হারা এ সমস্ত মা-বাবা এবং স্বজনদের কাছে সমাজ ও সরকারের জবাব কি?

একের পর এক শিশুদেরকে মানুষরুপী হায়েনারা যেভাবে নৃশংস পন্থায় হত্যা করেছে তাতে গোটা জাতি উদ্বিগ্ন, লজ্জিত ও আতঙ্কগ্রস্ত এবং ক্ষুব্ধ।

এ সমস্ত নৃশংস ঘটনার সাথে বহুলাংশে সরকার দলীয় লোকজনই জড়িত। ফলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডসংঘটিত হওয়ার পরে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের হম্বিতম্বির মধ্যে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাচ্ছে। যে সমস্ত পাশবিক কর্মকাণ্ডচলছে তার বিচারের জন্য সরকারের কোন পদক্ষেপই জনগণের দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না।

এ কারণেই সর্বশেষ নৃশংসতার করুন শিকার হয়ে খুলনায় রাকিবের মত একজন নিষ্পাপ শিশু দুনিয়া থেকে দুঃখজনকভাবে বিদায় নিয়েছে।

জাতি হিসেবে আমরা এর দায় এড়াতে পারি না। বিশেষ করে সরকারের কাছে জাতি জানতে চায়, বাংলাদেশের পিতা-মাতারা কবে এ হুমকি এবং আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে?

এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা ও পেশাজীবী সংগঠন, বিশেষ করে দেশের সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতিবাদী, সোচ্চার ও বলিষ্ঠ ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করি।

আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা বার বার শিশু হত্যা ও শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানিয়ে আসছি।

আমরা আশা করি, সরকার রাজনীতি দমনের এজেন্ডা বাদ দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমাজের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করতে বাধ্য করবেন। অন্যথায় যে কোন ব্যর্থতার সমস্ত দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।”

এসএইচ