চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ভাস্কর্য ইস্যুতে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, মূর্তি স্থাপন করে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা মানে ‘মুসলিম রাষ্ট্রনায়ককে ইসলামের আলোকে দাফন-কাফন না করে বিধর্মীয় পন্থায় তার শেষকৃত্য করার মতোই নিন্দনীয় কাজ।’
মুফতি রেজাউল করিম বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহার করুন। তা না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর।
মামলা প্রত্যাহার ও বাদীদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের আগে জাতির সামনে অঙ্গীকার করেছিল মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে এবং ইসলামি নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কোনো কার্যকলাপ গ্রহণ করবে না। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার ইসলামবিদ্বেষী কাজ করছে। মূর্তি ও ভাস্কর্য এক ও অভিন্ন। আমরা দুটিরই বিরোধী।
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, ‘আলেমদের নামে উগ্রবাদী ও সীমা লঙ্ঘনকারীরা মিথ্যা মামলা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সরকার লুটপাট, দুর্নীতি ও দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা আড়াল করার অপচেষ্টা করছে।’
‘ইসলাম চরিত্রগতভাবেই শান্তিবাদী একটি ধর্ম। পবিত্র কুরআনে পরিষ্কারভাবেই জোর করে কারো ওপরে ধর্ম চাপাতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে ইসলাম তার সাড়ে চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে কখনোই কোনো জনপদে শক্তি প্রয়োগ করে তার কোনো বিধান চাপিয়ে দেয় নাই। অনুরূপভাবে বাংলাদেশের সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে, কর্মমুখী করতে, সমাজে শান্তি, শৃংখলা রক্ষা করতে, সমাজের মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সৌজন্যবোধ চর্চায় উলামায়ে কেরাম শান্তিপূর্ণভাবে যুগ যুগ ধরে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’
লিখিত বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঢাকা কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে স্থাপিত হতে যাওয়া ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাঁচ/সাতটি মসজিদ মাদ্রাসার মিলন মোহনায়, দুটি মসজিদের অবকাঠামো ভেঙে এই পয়েন্টে ভাস্কর্য স্থাপনের ফলে স্থানীয় ইমাম মুসল্লি ও তৌহিদি জনতা সেখানে ভাস্কর্যের বদলে বিকল্প কোনো উত্তম পন্থায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণীয় করে রাখার দাবি জানিয়েছিল।’
মুফতি রেজাউল করিম আরো বলেন, উলামায়ে কেরাম কোরআন হাদিসের আলোকে তাদের মতামত জানান মাত্র। তারা কখনোই কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে বলেন না। একই ধারাবাহিকতায় দোলাইরপাড়ের মূর্তি নিয়ে তাঁরা তাঁদের অবস্থান জানিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশের অন্য মূর্তি ভাঙার কোনো সম্পর্ক নেই। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার সঙ্গে উলামায়ে কেরামের মতামতকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্পৃক্ত করা উলামা ও ইসলাম বিদ্বেষের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ মাত্র।’
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনার পর গতকাল সোমবার ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। এ মামলার অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এএস





