গঠনতন্ত্র অনুযায়ি ২ বছর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পার করে ২৮তম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আগামীকাল ২৫ জুলাই শনিবার ও ২৬ জুলাই রবিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সম্মেলনকে ঘিরে সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে। সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা এরইমধ্যে অনেকেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের পদচারণায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অফিস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিন মুখরিত।

এদিকে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভিতরে ও বাইরে চলছে জল্পনা-কল্পনা ও নানা রকম হিসাব-নিকাশ।
পদপ্রত্যাশী নেতাদের পদচারণা বাড়ছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দুয়ারে। কারণ প্রভাবশালী নেতাদের লবিংয়েই পদ পাবেন পদপ্রত্যাশীরা। নেতা-কর্মীদের মূখে একটাই আলোচনা। কারা হচ্ছেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক।
তবে ছাত্রলীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এবার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সম্মেলন শেষে মনোনীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করতে পারেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্রের আরও দাবী দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়া ছাত্রলীগের কমিটি নির্বাচন করতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে এবারে সিলেকশন প্রক্রিয়া বেছে নেওয়া হতে পারে।

এদিকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে ২০০৬ ও ২০১১ সালে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সময় ভোট কেনাবেচাসহ নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এ সব অনিয়ম ঠেকাতেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সিলেকশন কমিটি করার কথা ভাবছে। সংগঠনে কোন্দল ও গ্রুপিং এড়াতে শেখ হাসিনা নিজেই এ কমিটি ঘোষণা দিতে পারেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই চাচ্ছেন ছাত্রলীগের আগামী নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পছন্দেই আসুক। আশির দশকে দেশে ফেরার পর থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রধান নিজেই ভূমিকা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই নতুন নেতৃত্বের বিষয়টিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ছাত্রলীগ ৭২ সালের পর থেকে কখনই নির্বাচিত কমিটি দিতে পারেনি। গত দুই সেশনে নির্বাচিত কমিটি হলেও এ নিয়ে পদবাণিজ্য হয়েছে। হয়েছে কোন্দল ও মারামারি।
শেষমেষ ব্যলট বাক্স গণভবনে নিয়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার এ সব ঝামেলা এড়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শেখ হাসিনা বসবেন। বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি নিজেই এবার কমিটি ঘোষণা করবেন। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই এক্ষেত্রে চুড়ান্ত হবে।

ছাত্রলীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে এখন পর্যন্ত ২২২ জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদপ্রার্থী ৭৪ জন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১৪৮ জন।
তবে সভাপতি-সম্পাদক হওয়ার মধ্যে এগিয়ে আছেন, বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী এনায়েত, পরিবেশ সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা, ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক ইমতিয়াজ বাপ্পী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক প্রিন্স, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম, উপ-আইন সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশসহ অনেকে।
এছাড়াও বর্তমান কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা জয়দেব নন্দী, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, আশিকুর রনো, ওমর শরীফ, মেহেদী হাসান ও শারমিন সুলতানা লিলি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করতে পারেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, এবার সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে তারাই উঠে আসবে যারা মেধাবী ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
একইসঙ্গে যারা বিএনপি কিংবা জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা ও আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় ছিল তারাই ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দেবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী শামসুল কবীর রাহাত বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। এছাড়াও ছাত্রলীগের কাউন্সিলর প্রতিও আমার আস্থা আছে। তাই ইলেকশন ও সিলেকশন যাই হোক না কেন জয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদি।
তিনি আরও বলেন, সবসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তাই নানাভাবেই যোগাযোগ রাখছি নেতাকর্মীদের সঙ্গে। মোবাইলে- ফেসবুকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

এমএইচ