পৌরসভা নির্বাচনে অবশ্যই সেনা মোতায়েন করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

আজ (বুধবার) বিকেলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন করার সদিচ্ছা যে নেই তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তোলার যথেষ্ঠ অবকাশ রয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে দলীয় প্রতীকে এই পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রাথীরা প্রতিনিয়ত প্রশাসনের সুবিধা পেয়ে আসছেন বলেও মত দেন আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, উদাহরনস্বরুপ, একজন ডিসি যিনি এই সরকারের অধীনে চাকুরি করছেন, পদন্নতীসহ অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন, তিনি যখন দেখবেন প্রধানমন্ত্রীর সিল-স্বাক্ষরসহ একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তখন স্বভাবতই ওই ডিসির হৃদয়-প্রান সেই প্রার্থীর পক্ষে চলে যায়।

আসিফ নজরুল নির্বাচন কমিশনের সাথে মানবাধিকার কমিশনের তুলনা করে আরও বলেন, এ ধরনের যত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আছে তাদের খুব বেশি ক্ষমতা না থাকলেও যতটুকু আছে তার প্রয়োগ হচ্ছে না।

সরকার কি চায় তা ছাড়া অন্য কোন কাজই এসব প্রতিষ্ঠান করে না মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, এখন কথায় কথায় বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কিন্তু স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা হচ্ছে না, জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, স্থানীয় সরকারকে দুর্বল বানিয়ে রাখা হচ্ছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন অনির্বাচিত লোকদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা হচ্ছে।এগুলো কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী না?

বর্তমানে একশ্রেনীর বুদ্ধিজীবী যারা টেলিভিশনের টকশোতে ইদানিং সরব, তারা এগুলো দেখতে পায় না মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, এরা সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটি মানুষই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। অথচ এই স্থানীয় সরকারকে দলীয়করণের নামে দুর্বল করে রাখা হয়েছে-এটা কতবড় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। শুধু মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেই হবে না।

কেবি