ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটার ম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ বইটি প্রকাশের পর সেখানে উল্লিখিত বিভিন্ন তথ্য খালেদা জিয়ার নজরে আনেন দলের নেতারা।

যার কারনে তার ওপর ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।বিশেষ করে কিছু বিতর্কিত বিষয়ে সরকারের হাতে অপপ্রচারের অস্ত্র তুলে দেয়ার অভিযোগ আনা হয় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে।

ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বইয়ে বিএনপির ভুলত্রুটি নিয়ে লেখা নানা তথ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপির রাজনীতি। দলের দুঃসময়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।

কয়েকজন সিনিয়র নেতা ‘বিতর্কিত’ এ বই লেখার জন্য ব্যারিস্টার মওদুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া রোববার রাতে দলের কয়েকজন মাঝারি সারির নেতার সঙ্গে কথা বলার সময় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে চান না তিনি। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ৩৫ জন বিচারক নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

কিন্তু তার বিরোধিতা করে বিচারক নিয়োগ করতে দেননি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এখন তিনিই চার দলীয় জোট সরকারের সমালোচনা করে বই লিখেছেন।

সূত্র জানায়, মওদুদ আহমদের বইয়ে প্রকাশিত নানা তথ্যে খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন খালেদা জিয়া। তবুও একজন বয়স্ক নেতা হিসেবে ব্যারিস্টার মওদুদকে সম্মানজনকভাবেই বিদায় জানাতে চান শীর্ষ নেতৃত্ব।

আপাতত বিএনপির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলোতে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ওদিকে রোববার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।

পরদিন দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

অভিযোগ করেন ‘সরকারের সন্তুষ্টি অর্জন এবং বাড়ি রক্ষার জন্য’ ব্যারিস্টার মওদুদ মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সংযুক্ত করে বইটি লিখতে পারেন। তার অতীত রাজনৈতিক মতপরিবর্তন ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন রিজভী। তুলনা করেন ‘কাক’ ও ‘ফাস্টফুড’-এর সঙ্গে।

ব্যারিস্টার মওদুদের সমালোচনা করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ওদিকে বইটি প্রকাশের পর দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে মওদুদ আহমদকে ভদ্রবেশী দালাল ও বেঈমান আখ্যায়িত করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী।

মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আজমল বখত সাদেক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারা বলেছেন, রাজনৈতিক জীবনে মওদুদ সবসময়ই দালালি করে এসেছেন। কারাফটকে বসে যে বইটি তিনি লিখেছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাড়িটিও হাতছাড়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের দালালি করে আমাদের দলের চেয়ারপারসনকে মিথ্যা আশ্বাসে আশ্বস্ত করে ভুল বুঝিয়ে সরকারের হাতে বাড়িটি তুলে দিয়েছেন।

মওদুদ আহমদ (তার লেখা বইয়ে) খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন তা সঠিক নয়। মওদুদ কারাফটক থেকে বের হওয়ার তাগিদে ও তার বিলাসবহুল বাড়িসহ সম্পত্তি রক্ষায় সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেছেন।

এছাড়াও বিএনপিপন্থি একজন তরুণ ব্যারিস্টার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ’ লিখে মন্তব্য চেয়েছেন। সেখানে কড়া সমালোচনা করেছেন অনেকেই। গত কয়েকদিন দলে বিএনপি ও অঙ্গ দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই তাদের ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।

তারা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অতীত রাজনৈতিক মতপরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর উপ-নির্বাচনে তিনি জিতেছিলেন খালেদা জিয়ার বদান্যতায়।

খালেদা জিয়ার বাড়ির মামলায় হারের জন্যও তাকে দায়ী করেছেন কেউ কেউ। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন অনেকেই।

এদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বইয়ের প্রশংসা করেছেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বইয়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি নেত্রী আত্মঘাতী রাজনৈতিক ভুল করেছিলেন। মনে রাখবেন, মওদুদ ভাই লেখেন ভাল কিন্তু রাজনীতিতে খারাপ।’

ঢাকা, ১৭ সেপ্টম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ