ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে নেয়া মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ও নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে দমন করার চেষ্টা করছে সরকার। ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ পায় যা পরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
পুলিশ প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্রের কয়েক জনকে গ্রেফতারও করে এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সুতরাং ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ কারণে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ ঐ ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন করছে। অভিভাবকগণও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু সরকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি অগ্রাহ্য করে একগুঁয়েমির আশ্রয় নিয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার মেধাবীদের সাথে প্রতিপক্ষের মত আচরণ করছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। গতকাল শিক্ষার্থীদের সমাবেশে পুলিশ হামলা করে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে এবং লাঠি পেটা করে ও টেনেহিঁচড়ে একজন ছাত্র এবং একজন ছাত্রীর পোশাক ছিড়ে ফেলেছে। এতে আহত হয়েছে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া লোকদের বিচার না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলায় প্রমাণ হয় এই অনৈতিক ঘটনার সাথে সরকার বা তাদের লোকজন সরাসরি জড়িত। তাদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই সরকার হামলা ও মিথ্যাচার করছে। কিন্তু অযোগ্য ও মেধাহীন শিক্ষার্থীদের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার এই জাতি বিনাশী অপতৎপরতা কিছুতেই মেনে নেয়া হবে না।
অবিলম্বে ফাঁসকৃত প্রশ্নে বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে নতুন পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের মনে রাখা উচিৎ তাদের ধাপ্পাবাজি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দেশাবাসী মানতে প্রস্তুত নয়।
নেতৃবৃন্দ একগুঁয়েমি পরিহার করে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
কেএইচ





