সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেছেন, জনগনকে ক্ষমতার উৎস বললেও বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তাদেরকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। তারা মনে করে জনগণ কিছু বুঝে না অথচ জনগণ যা বুঝে তারাই তা বুঝে না।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে দিগন্ত টেলিভিশন সাময়িক সম্প্রচার নিষেধার আঁধারে দু:সহ ২ বছর শীর্ষক প্রতিবাদী সংহতি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা জনগণকে যেমন বোকা ভাবেন জনগণ তেমন বোকা নয়। তারাই একদিন আপনাদের ক্ষমতা থেকে নামাবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের আড়ালে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করা না হবে, ততক্ষণ মিডিয়ার উপর এরকম অত্যাচার চলতেই থাকবে।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, গত কিছু ‍দিন আগে মুক্ত মিডিয়া দিবস গেছে। তর্থ্যমন্ত্রী সেখানে মিডিয়ার অনেক সমলোচনা করেছে। কিন্তু যে সকল মিডিয়া বন্ধ আছে সে সম্পর্কে কোন কথা বলেনি। এটা খুবই দু:খজনক।

সাংবাদিক কলামিষ্ট মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘যে সমাজে ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না সে সমাজ বেশি দিন টিকে না। যারা টেবিলে বসে বক্তব্য রাখে তারা কখনও বন্ধ গণমাধ্যম খুলতে পারে না খুলতে হবে আপনাদেরকেই।

তিনি বলেন, দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধের কারণে আমি দু'ধরনের কষ্টে আছি। প্রথমটি হচ্ছে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি দ্বিতীয়টি যারা এখানে কাজ করেছে তাদের পরিবারের নিধারুণ করুন কাহিনী।

নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন বলেন, আমি ৫০ বছর সাংবাদিকতা করছি। মিডিয়ার উপর এরকম পরিস্থিতি কখনও দেখিনি। আজকে নয়া দিগন্ত পত্রিকা অনেক জায়গাতে গোপনে পড়তে হয়। দিগন্ত এমন একটি টিভি যা কখনো অবজেক্টটিব থেকে সরেনি ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার হিটলারকে অনুসরণ করছে। হিটলার বলেছিলো জনগণ কিছু না, দুটি জিনিসকে নিয়ন্ত্রন করলে ক্ষমতায় থাকা যায়, একটি হচ্ছে গণমাধ্যম অপরটি হচ্ছে ধর্ম।

কলামিষ্ট ও কবি ফরহাদ মাজাহার বলেন, 'কিছু গনমাধ্যম সন্ত্রাসী মিডিয়া হিসেবে কাজ করছে। সাংবাদিক হয়েও যারা একটি দলের হয়ে কাজ করে তারা সরকারি দলের ক্যাডার ছাড়া আর কিছু নয়।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মিডিয়া বন্ধের জন্য শুধুমাত্র শেখ হাসিনা দায়ি নয়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীরা জড়িত। এটা ফেলস্টেট এর গভীর ষড়যন্ত্র। পঞদশ সংশোধনীর মানে হচ্ছে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না যেতে হলে আঙ্গুলের মাধ্যমে যেতে হবে।

বর্তমান ক্ষমতাশীনদের কপালেও দুর্ভোগ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে শান্তি আসবে না, সামনে আরো কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে প্রিয় নবীর বিরুদ্ধে কথা বললে কিছু হয় না অথচ বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বললে খবর আছে।’

প্রতিবাদী সংহতি সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি শাখোয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ও প্রেসক্লাবের যগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

এমএ/এমকে