বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে পরবর্তী সময়ে (মুক্তিযুদ্ধে) তার কাজের আমরা সমালোচনা করতে পারি।’

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে  সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের জনগণ ভোট দিতে চায়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়, তারেক রহমানের তরুণ নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সরকার দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে রেখেছে।

তিনি বলেন, সরকার তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে খুঁজে বের করে আনতে চায় কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী কোথায় আছে সেটি বলতে পারে না দেশের জনগণ এটি মেনে নিবে না। কেননা মন্ত্রীত্ব থেকে বিদায়ের মাধ্যমেই তার বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে  পারে না।

তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করুন জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে। তখন সব কিছুই টের পাবেন।

ইসলামী দলগুলোর আহ্বানে ২৬ অক্টোবরের হরতাল প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, ইসলামী দলগুলো এই হরতাল ডাকলেও আমি মনে করি এই হরতালে দেশের জনগণের সমর্থন রয়েছে।

শহীদ মিনার সকলের হৃদয়ের জায়গা, সেখানেও যাওয়ার বিধিনিষেধ’ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘যাদের জন্য মাতৃভাষার অধিকার পেলাম আজকে তাদের শহীদ মিনারে যাওয়ার অধিকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) আমি স্বাগত জানাই। আপনার বক্তব্য গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বহির্ভূত। আপনাকে বলব, বেনজীর আহম্মেদের বাহিনী বাদ দিয়ে খালি রাস্তায় বের হউন, দেখেন আমাদের কিছু করা লাগবে না, জনগণ কী দেখায়। পরিণতির জন্য আপনি অপেক্ষা করেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সংবাদ সম্মেলন, এটা প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ছিল না।আমি যদি প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বলি, লোকে আমাকে পাগল বলবে।’

তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ডিফেন্স করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের ধরন দেখে মনে হয়েছে এটা কোনো সংবাদ সম্মেলন নয়, শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।’

এমএইচ