৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাজেনৈতিক অস্থিরতা যেন হঠাৎ থেমে গেল। টানা অবরোধ এবং হরতালের কারণে সারাদেশ যখন অস্থিরতার জ্বরে ভুগছে তখন আওয়ালীগ সরকারের মাত্র একটি সিদ্ধান্তই যেন দাবানলের আগুন নিভিয়ে দিল।
২৮ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। আর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য এই দুটি শহরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই দুই শহর যে রাজনৈতিক দলের দখলে থাকে ক্ষমতা তার হাতেই থাকে।
সারাদেশে বিরোধী দলের আন্দোলনে উত্তাল থাকলেও তারা যদি ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আন্দোলন শক্ত করতে না পারে, তা হলে বিরোধী দল সরকার পতনের আন্দোলনে কোনো প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করা যায় না, বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা তা জানেন।
আসা যাক সিটি নির্বাচনের দিকে। ঢাকা সিটির দক্ষিণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন, উত্তরে ব্যবসায়ী আনিসুল হক এবং চট্টগ্রামে আ.জ.ম. নাছির। এছাড়া বিএনপি'র ঢাকা সিটি দক্ষিণে মির্জা আব্বাস, উত্তরে তাবিথ আউয়াল এবং চট্টগ্রাম সিটিতে মনজুর আলম মেয়র প্রার্থী।
প্রার্থীদের কাছে জামায়াত-হেফাজতের এতো কদর বাড়ার কারণ কেন ?
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল। আর কার্যত সরকারের প্রধান সক্রিয় বিরোধীদল। এছাড়া জামায়াত এমন একটি সংগঠিত দল যে তাদের নীতি নির্ধারণীরা যে সিদ্ধান্ত নিবেন তার কর্মীরা হুবহু মেনে চলেন।
জামায়াতের কদর বাড়ার প্রথম কারণ এটি যে, সিটি নির্বাচনে এই দলের কোন মেয়র প্রার্থী নেই এবং অধিকাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। যদিওঅনেকছোটছোটদলেরপক্ষেমেয়রপ্রার্থীরয়েছেন, গণসংহতিরজোনায়েদসাকি, জাসদেরঅভিনেতানাদেরচৌধুরী।তাই মেয়র নির্বাচনে জামায়াতের কর্মীরা কাকে ভোট দিবেন তাই নিয়েই মেয়র প্রার্থীদের যত চিন্তা।
এছাড়া জামায়াত শিবিরের কর্মীরা রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় তাই তাদের কাজে লাগাতে পারলে যেকোন প্রার্থীই অনেকটা এগিয়ে যাবেন এটা সহজেই অনুমান করা যায়।
আর এদিকে হেফাজতের কদর বাড়ার কারণ চট্টগ্রাম হলো হেফাজতে ইসলামের মূল ঘাটি এবং ঢাকাতেও হেফাজতের নেতাদের অনেক বড় বড় মাদ্রসা রয়েছে।
এছাড়া গত কয়েকটি সিটি নির্বাচনে হেফাজত ইস্যুতে সরকার দলীয় প্রার্থীদের ভরা ডুবি হওয়ার কারণে হেফাজতের সমর্থন পেতে দিশেহারা সরকার সমর্থিতরা। এছাড়া গত কয়েকটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা হেফাজত ইস্যুতে বিশাল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন তাই বিএনপির প্রার্থীরা কিছুতেই হেফাজতের সমর্থন হারাতে চায় না।
আওয়ামী প্রার্থীদের কাছে জামায়াত-হেফাজতের এতো কদর কেন ?
সিটি নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রাথীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় শহরের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারী কোন আওয়ামী লীগ নেতাকেই পাশে পাচ্ছে না। যেমন মায়া চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী, কামরুল ইসলাম, কামাল মজুমদার।
এছাড়া সর্বশেষ একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি কামারুজজ্জামানের ফাঁসির বিষয়ে বিএনপি নিশ্চুপ থাকায় জামায়াত-বিএনপির সম্পর্কে শীতল উত্তেজনার সুযোগটাই নিতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
এজন্য গোপনে জামায়াত নেতাদের সাথে যোগাযোগের খবরও পাওয়া গেছে। এজন্য তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথাও বলা হচ্ছে যেমন স্থানীয় ভাবে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি না করা, পুলিশি হয়রানি বন্ধ,জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে যাতে মামলা না দেয়া হয় এজন্য সহযোগিতা করা।
এছাড়া হেফাজতের সমর্থন পেতে যোগাযোগ করছে সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা। গোপন সূত্রে জানা গেছে হেফাজত নেতাদের মাদ্রাসায় দানের পরিমাণও বেড়ে গিয়েছে।
বিএনপির কাছে জামায়াত হেফাজতের কদর বাড়ার কারণ ?
কামারুজ্জামান ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে টানা-পোড়ণের কারণে জামায়াতের নিশ্চিত সমর্থন পাবে কিনা তা নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং বিব্রত বিএনপি'র প্রার্থীরা। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা থাকায় বেশির ভাগ নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেই।
এদিকে, ঢাকা সিটি দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের মামলায় জামিন না পাওয়া প্রচারণায় অংশ নিতে না পারা এবং সাদেক হোসেন খোকার সাথে দ্বন্দের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের পর্যান্ত পরিমানে মাঠে না পাওয়ার বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন মির্জা আব্বাস।
আর রাজনৈতিক মাঠে একেবারেই নতুন তাবিথ আউয়াল বিএনপির সিনিয়র কাউকে মাঠে না পাওয়ায় গুছিয়ে উঠতে পারছেন না নির্বাচনী প্রচারণায়।
তাই নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কাছে পেতে এবং জামায়াত-হেফাজতের নিশ্চিত ভোট বিএনপি'র প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, যোগাযোগ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে।
কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এবং হেফাজতে ইসলাম কাকে সমর্থন দিবে তার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে এই বড় দুই দলের প্রার্থীদের।
তাই সর্বশেষ জামায়াত এবং হেফাজত সিটি নির্বাচনে কি কৌশল নেবে তার অপেক্ষায় থাকলাম আমরা।
এসএইচ





