খুলনা-বরিশালসহ ৫ সিটিতে নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া ক্ষমাসীন আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না ঐতিহ্যবাহী এ দলটি।
আসন্ন ৩ সিটি নির্বাচনে জয় পেতে বিভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। সিটি নির্বাচনে জয় পেতে ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের কঠিন হুশিয়ারী দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে কাজ করছে নেতাকর্মীরা।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে দলের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা নিয়ে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিগত কয়েকটি সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। এখন তিনটি সিটি করপোরেশনে আমাদের অবশ্যই যেকোনো প্রকারে হোক জিততে হবে। জিততে হবে এ জন্য যে, ১৫০ জন পেট্রলবোমায় নিহত হয়েছে। যদি পরাজিত হই তাহলে পেট্রলবোমার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এই রাজনীতি কেউ পছন্দ করছে না।’
এদিকে গত ৫ সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হলেও সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে দাবি করছেন শাসক দলের মন্ত্রী ও নেতারা।
তবে এই তিন সিটিতে জয় না পেলে ২০ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলন আরো তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। এজন্য তিন সিটিতে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না আওয়ামী লীগ।
দলীয় একটি সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পেতে দলের অনেক সিনিয়র নেতাকর্মীরা কাজ করছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের কর্মকান্ড নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদা বৈঠক করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা জানান, ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অন্য প্রার্থীদের কাছে হেরেছে। তাই ঢাকা- চট্টগ্রামে জয় পেতে হবে। না হলে দেশে বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আরও বেড়ে যাবে। তাই জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের জয় প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, গত এক বছর ধরে বিএনপি-জামায়াত দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। এতে তাদের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। আর শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে দেশের উন্নয়ন করছে, তাতে আমাদের জয় হবেই।
এদিকে সিটি নির্বাচন নিয়ে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেছে ১৪ দল। বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী দিবে ১৪ দল এবং প্রধানমন্ত্রী মনোনীত প্রার্থীকেই নৈতিক সমর্থন জানাবে তারা।
এছাড়াও গত শুক্রবার দলীয় সিনিয়র নেতা ও সিটি নির্বাচনের আওয়ামীপন্থী মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি সিটি নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রতি দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন।
বৈঠক সূত্রে জানাগেছে, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রত্যেক ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সঙ্গে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য নগর নেতাদের নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
বৈঠকে গণতন্ত্র উন্নয়ন ও শান্তির লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা, নৈরাজ্য এবং অব্যাহত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ প্রধান।
বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যে কোন বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে এর পরিণতি ভালো হবে না। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আজ শান্তি চায়। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেলিন বলেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে আমাদের সমর্থিত প্রার্থীদের প্রস্তুতি অনেক ভালো।এ নির্বাচনে জয়ের জন্য আমরা ৮০-৯০ ভাগ আশাবাদী। আর আমরা সেভাবেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এ দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে যত নির্বাচন হয়েছে তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আগামী নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
এমআর/এসএইচ





