এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ রশীদ বলেন, জাসদ সৃষ্টি না হলে গণবাহিনী সৃষ্টি হত না, তা না হলে কেউ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাহস দেখাতো না।
দশম সংসদে আকস্মিকভাবে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়ালেন জাতীয় পার্টি ও জাসদের সংসদ সদস্যরা।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিএলএফ বাহিনীর তালিকা আনা সংক্রান্ত একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব এদিন সংসদে গ্রহণ করা হয়।
প্রস্তাব উত্থাপনকারী জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্যে জাসদ সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ফিরোজ রশীদ তার প্রস্তাব উত্থাপনের সময় বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পরে যেন প্রতিবিপ্লব না হয় সেজন্য বিএলএফ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
“কিন্তু সেই বাহিনীর একজন প্রধান সিরাজুল আলম খান বিএলএফ থেকে বের হয়ে জাসদ তৈরি করে। এই জাসদ আর গণবাহিনী আমরা যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ করতাম, তাদের মাঠে ঘাটে হত্যা করেছে।”
ফিরোজ রশীদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি ছিল- বিএলএফের ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের তালিকাটি জরুরি ভিত্তিতে আনা হোক।
সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক বলেন, “সিরাজুল আলম খান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রতিবিপ্লবের পথ সুগম করে দিয়েছিলেন। সেদিন জাসদকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জাসদের পিছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। যারা বাংলাদেশকে মানেনি, মুসলীম লীগ পরিবার, সবাই রাতারাতি জাসদ হয়ে গেল।
“আজকে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের ভুলের জন্য জাতিকে খেসারত দিতে হচ্ছে। ৪৩ বছর ধরে খেসারত দিচ্ছি।”
মন্ত্রী এসময় প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পক্ষে মত দিলে স্পিকার সেটি ভোটে দেন। তখন তা কণ্ঠভোটে গ্রহণ করা হয়।
ঢাকা, ৩ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





