আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রতিপক্ষ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ না থাকলে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালেও এমন হয়েছিল। আর সেই সুযোগ পেয়েছিল মোশতাকের মতো বেঈমান, জিয়াউর রহমানের মতো বেঈমান।
বুধবার দুপুরে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত শেখ কামালের ৬৬তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
নাসিম আরও বলেন, সামনে আরো কঠিন সময়। আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। আত্মতৃপ্তিতে থাকলে ফের ১৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতির পুনাবৃত্তি হতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে কোনো সুখের দিন নাই। যদিও আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আছি। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা শোককে শক্তিকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক অসাধ্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সকল বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছেন।
১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা একাত্তরের খুনিদের বিচার করছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই তোমাদের বলব, দলে সুযোগসন্ধানীদের জায়গা দিয়ো না।
‘এরা এসে এখন সামনে থাকবে কিন্তু যদি রাসেল স্কয়ারে যেতে হয় তখন থাকবে না।’
তিনি বলেন, দল বড় করার কোনো দরকার নেই। আমাদের অনেক ত্যাগী-নির্যাতিত নেতাকর্মী আছেন। তা না হলে আবার ১৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, আমাদের সামনে কোনো প্রতিপক্ষ নাই।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা। তার কোনো বিকল্প নেই। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে শেখ হাসিনার দুর্নাম হয়। আর সুযোগসন্ধানীদের দল থেকে বের করে দিতে হবে।
নাসিম বলেন, আমাদের অনেক নির্যাতিত নেতাকর্মী আছেন। তাহলে কেন আমাদের নতুন লোক নিয়ে আসতে হবে। এদের কোনো প্রয়োজন নেই।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। ২০১৪ সালের আগেও বলেছি। এখনো বলছি। শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন যথাসময়ে হবে। এতে কোনো দ্বিধা নেই।
তিনি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার অর্জন নিয়ে জনগণের সামনে যাব। আপনারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হোন। দেখি জনগণ কাকে সমর্থন করে। বিএনপিকে অনুরোধ করব, নির্বাচনে আসুন। জ্বালাও-পোড়াও করে কোনো লাভ হবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও মতিউর রহমান মতি।
এমএইচ





