উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিজস্ব বলয় গড়ে তোলার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। এটা সহ্য করা হবেনা। উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা খাটানো যাবে না।’
আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় মঙ্গলবার রাতে তিনি এ সব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য এ তথ্য জানান।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নবনির্বাচিত এমপিদের শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৃণমূলের সিদ্ধান্তে নাক গলানো যাবে না। দল ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সিদ্ধান্তে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন করার কাজ শুরু করতে হবে। দল ও সংসদ সদস্যকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। দল ডিঙ্গিয়ে নিজস্ব বলয় ও নিজের লোকদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। তৃণমূল যাকে চাইবে তাকেই সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করে আনতে হবে।’
এমপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এমপি হয়েছেন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে, বিভক্ত করতে নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমপি হওয়ার পর খবরদারির মানসিকতা দূর করতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ নয়। দলকে সহযোগিতা করতে হবে। দল ও এমপি আলাদা করলে চলবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা গত নির্বাচনে বিভিন্ন কারণে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেনি, আগামীর পথ চলায় তাদেরকেও সঙ্গে নিতে হবে। তাদের আলাদা করা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাও চলবে না। তারাও দলেরই অংশ।’
বৈঠকে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা সংসদ সদস্য হয়েছেন তাদেরকে দলীয় ফাণ্ডে নগদ ১০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। চাঁদা হিসেবে এমপিদের দলীয় ফাণ্ডে ২ হাজার টাকা দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। আগে এ চাঁদার পরিমাণ ছিল ৫ হাজার টাকা। সৈয়দ আশরাফের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ চাঁদা ২ হাজারে নামিয়ে আনা হয়।
দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়া, সংবিধান রপ্ত করা ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে অবহিত হওয়ারও তাগিদ দেন সংসদ নেতা।
এ সময় তিনি এমপিদের লাইব্রেরিকেন্দ্রিক পড়াশোনা করতে বলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হলে আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়া হবে। আর সম্পৃক্ত থাকলে মূল্যায়ন করা হবে। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ না নিলেও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেক এমপি’র বিজয়ী হয়ে আসতে ঘাম ঝরে গেছে। এটা মাথায় রেখেই সবাইকে কাজ করতে হবে।’
দলের সাংগঠনিক দূর্বলতা নিয়ে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন কথা বলতে চাইলে সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের মধ্যে দুর্বলতা নেই। দলের নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াতের অনেক ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মাঠে ছিল। দেখা গেছে বিএনপি কর্মসূচি দিয়েছে মাঠে ছিল আমাদের নেতাকর্মীরা।
[b]ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) //এফএ
[/b]
সংসদ সদস্যদেরকে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিজস্ব বলয় গড়ে তোলার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। এটা সহ্য করা হবেনা। উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা খাটানো যাবে না
শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আমরাও চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়: প্রতিমন্ত্রী
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—ইতিহাসের এই সত্য মুছে ফেলা যাবে না।
গ্রেপ্তার ২ নওগাঁয় শেখ হাসিনা আসবে বলে মাইকিং
নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
আ’লীগের নেতা-কর্মীরাও মদ খায় সব বাটপারের কারখানা: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র শেখ হাসিনাই কারচুপি করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। শেষমেশ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। আমরা এ ধরনের রাজনীতি করিনি; ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, অথচ তাদের জাবেদ নামের এক এমপির বিদেশেই সাড়ে চারশত বাড়ি রয়েছে।’
















