বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গাজীপুর এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগ করেনি, করেছে পুলিশ, ডিবির একটি। আর তাদের সহযোগী ছিলো নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) দুপুরে ‘খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনী প্রহসন: বিপর্যস্ত ভোটের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, ‘দেশের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্টেটস ধ্বংস হয়ে গেছে। আর এখন চতুর্থ স্টেটস গণমাধ্যমকে ধ্বংস করতে চায়। ভোট ডাকাতি করতে গিয়ে তারা গাজীপুর নির্বাচনে গণমাধ্যমকেও বাধা দিয়েছে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এখন নির্বাচন করতে হয় না। তাদের কাজ ডিবি, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ এটি করে দেয়। গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা করেনি। এগুলো করেছে পুলিশ, ডিবি। আর নির্বাচন কমিশন তাদের সহযোগিতা করেছে। ফলে এখন নিজেদের নির্বাচন করতে হয় না আওয়ামী লীগকে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এটি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে একাতবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নয়তো এভাবে চললে চিরতরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। দেশ শাসিত হবে অবৈধ সরকার দ্বারা আর অবৈধ স্থানীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে। সুতরাং আমাদেরকে আইনের শাসন ফিরে পেতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিএনপি এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি শপথ-আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা এবং দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা।’

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোাহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য দেন।