অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজে ‘ছাত্রশিবির কর্মীদের সশস্ত্র যোদ্ধা বানিয়ে ছিলেন মীর কাসেম’ এবং ‘চট্টগ্রামে আনসারউল্লাহর নেপথ্য শিবির নেতা শামীম মেহেদী’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গনমাধ্যমকে পাঠানো এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, আবারো একপেশে, হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে বাংলানিউজ। অবৈধ সরকারের বিচার বিভাগীয় হত্যাকান্ড থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন
খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিত ভাবে মীর কাসেম আলীকে জড়িয়ে সিন্ডিকেট নিউজ প্রকাশ করে যাচ্ছে।
সম্পূর্ণ কাল্পনিক সূত্র এবং স্বীকৃত ও সশস্ত্র উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতাদের মিথ্যা বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মীর কাসেম আলী ছাত্রশিবির কর্মীদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, শিবির অস্ত্রের জোড়ে ক্যাম্পাস দখল করেছে ইত্যাদি। এই মিথ্যাচারের পক্ষে প্রতিবেদক কোন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি বরং চাতুরতার সাথে কাল্পনিক সূত্রের আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির বক্তব্য নেয়া হয়েছে যে কিনা কয়েক দিন আগে আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুলিশের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়েছিল। তাছাড়া বক্তব্যে নেয়া হয়েছে উগ্রমতাদর্শে বিশ্বাসী ও অস্ত্র নির্ভর সংগঠন ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদের। অথচ এমন গুরুতর অভিযোগের ব্যাপরে ছাত্রশিবিরের কোন নেতার বক্তব্যে নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি প্রতিবেদক। এতেই প্রমাণ হয় কোন বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে, কারো নির্দেশনায় পরিকল্পিত ভাবে প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে।
একই ভাবে ‘চট্টগ্রামে আনসারউল্লাহর নেপথ্য শিবির নেতা শামীম মেহেদী’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতেও সত্যতার লেশমাত্র নেই উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই প্রতিবেদনটি হীন উদ্দেশ্যে পুলিশ ও প্রতিবেদক যৌথ প্রযোজনায় করা হয়েছে। পুরো প্রতিবেদটি ভিত্তিহীন।
তারা বলেন, পুলিশের মিথ্যাচার ও প্রতিবেদকের কল্পনা যোগ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা শামিম রেজা ও চট্টগ্রামের নেতা মেহেদি আনসারউল্লাহ এর নেপথ্য আছে। অথচ শামিম রেজা নামে ছাত্রশিবিরের কোন কেন্দ্রীয় নেতাই নেই। মেহেদি নামে যাকে প্রচার করা হচ্ছে সেও ছাত্রশিবিরের কেউ নয়। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে তাদের পদ পদবি অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের জানতে চাই পদ পদবি না জেনেই কোথাকার কোন শামিম শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা তা পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে কি ভাবে? মূলত আদর্শিক ভাবে পরাজিত হয়ে ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি এক তরফা ভাবে তথ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলানিউজের মত কিছু গণমাধ্যম সরকারকে অন্ধভাবে সমর্থন করতে গিয়ে বার বার বিভ্রান্তিকর ও অসত্যের আশ্রয় নিচ্ছে।যখন জঙ্গিদের সাথে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তান, স্বজনসহ নেতাকর্মীরা জড়িত তার বহু প্রমাণ দেশবাসী দেখেছে।
নেতৃবৃন্দ এ ধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
আইজিপির বক্তবের প্রতিবাদ
অন্য এক বিবৃতিতে আইজির বক্তবের প্রতিবাদ করে শিবির । যৌথ বিবৃতিতে শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, জঙ্গিবাদের সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে পুলিশের এই উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্যে আমরা বিষ্মিত।
তারা বলেন, আইজির বক্তব্য ‘দেশে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িতদের ৫২ ভাগ শিবির’। এই দায়িত্বহীন বক্তব্য শত ভাগ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। ছাত্রশিবিরের লক্ষ্য, উদ্দেশ্যে ও কর্মপদ্ধতি সবই প্রকাশ্য। আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে দেশবাসী সম্পূর্ণ অবগত।
ছাত্রশিবিরের দীর্ঘ পথ চলায় কখনোই কোন উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদ স্থান পায়নি বরং তা আমাদের আদর্শের বিরোধী। ছাত্রশিবির সব সময়ই উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সরকার, পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুম, খুন, হামলা, মামলা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও ছাত্রশিবির নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সব কিছু মোকাবেলা করে চলেছে। এর পরও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে এমন জঘন্য মিথ্যাচার একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তিনি কোন ভাবেই একটি নিয়মতান্ত্রিক সংগঠনকে জড়িয়ে এমন মিথ্যা বক্তব্য দিতে পারেন না।
শিবির নেতৃবৃন্দ এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে এরুপ অপ্রত্যাশিত ও অন্যায় বক্তব্য দেয়া থেকে আইজিপিসহ কর্তাব্যাক্তিদের বিরত থাকতে অনুরোধ করেন।
এমবিএইচ





