বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি জননেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, পশু পালন প্রকল্পের মাধমে গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সে লক্ষ্যে আজ আমরা গাভী ক্রয়ের জন্য খামারীদের হাতে নগদ অর্থ ও গাভী গরু তুলে দিচ্ছি। আমাদের এই গ্রাম গুলোতে ব্যক্তিগত ভাবে বাড়ী বা খামারে অনেকে গাভী গরু লালন পালন করে থাকেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও যারা গাভী পালনের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন করে নিজ পরিবারের সচ্ছলতা আনয়ন করতে চান, আজ এখানে সেই ভাইয়ের হাতে গাভী গরু তুলে দিতে পেরে আমরা খুশি। আগামীর শহুরে নাগরিকেরা গ্রাম কেন্দ্রীক বসবাস করতে বাধ্য হবেন। কারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে সেভাবে শহরে আয়ের পথ তৈরি হচ্ছে না। পরিবার পরিচালনা সহ দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি এতে করে অধিকাংশ মানুষ শহর ছাড়তে বাধ্য হবেন। ক্রমান্বয়ে তাদের গ্রামীণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। বাউফল ফাউন্ডেশন মনে করে আগামী ২৫/৩০ বছর পরে কি হবে সেটাকে টার্গেট করেই গ্রামীণ উন্নয়নে আমরা বলিষ্ট অবদান রাখতে চায়। গ্রামীন উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
এজন্য পশু পালন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে ৩টি জিনিস সামনে রাখতে হবে। ১. করজে হাসানা যারা গ্রহণ করবেন আপনাকে এর প্রথমত আমানতদার হতে হবে, ২. করজে হাসানা গ্রহণকারী ব্যক্তি পরিশ্রম প্রিয় হবেন, ৩. করজে হাসানা নিয়ে যেন তার খেয়ানত না করি আমরা। দেশে সুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা একটি সুদ মুক্ত অর্থ ব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। আমরা বাউফলে সুদের কবর রচনা করতে চাই। আপনার আমার দৃঢ়তা বা হক্বের উপরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দেখে যেন আরও মানুষ এখানে সম্পৃক্ত হয়। তারা যেন আপনাকে আমাকে দেখে চলতে উৎসাহ উদ্বিপনা পায়। আমি করজে হাসানা প্রকল্প থেকে সহযোগিতা নিয়ে ৫টি ছাগল ক্রয় করে পরবর্তীতে লালন-পালন বড় করে, আমার আমানতদারিতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে আরও ২টি ছাগল উৎপাদন করার মাধ্যমে বা ১২/১৩টি এভাবে একটি পূর্ণ খামার দাঁড় করিয়ে সফলতা পেয়ে মানুষের কাছেও নিজেকে উপস্থাপন করতে পারি। তখন জনগণ এসব সফলতা দেখেই বাউফল ফাউন্ডেশনকে খুঁজতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। প্রকৃত অর্থে আমরা সকলে সাদাকায়ে জারিয়ার অংশ লাভ করার প্রত্যাশায় এই করজে হাসানা নিয়ে নিজেদের পরিশ্রম করে সফল হওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাউফল ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক খালিদুর রহমান, ছাত্র প্রতিনিধি মুন্তাসির মুজাহিদ, ছাত্র পটুয়াখালী প্রতিনিধি আলী আজগর, মেহেদী হাসান, বাউফল ফাউন্ডেশনের ছাত্র উপদেষ্টা মো. আলামিন, সিদ্দীকুর রহমান, হাফেজ আরিফ হোসেন, এমদাদুল হক বাবু, মো. মুজাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পরিশ্রম করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। পরিশ্রম করার মধ্য দিয়েই আল্লাহর সাথে বান্দাদের সাক্ষাৎ নিশ্চিত হবে। পরিশ্রম প্রিয় মানুষরা যদি দ্বীনের পথে থাকে, আল্লাহর দেওয়া কাজকে এগিয়ে নিয়ে যায় তবেই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী হয়ে যায় এবং কাল কেয়ামতের দিনে তিনি বান্দার হিসাব সহজ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আমাদের কর্জে হাসানা প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো, একজন ভাইয়ের ব্যক্তিগত পরিশ্রমে কিছুটা সহযোগিতা করে তার পাশে থেকে সদকায়ে জারিয়ার পুরস্কার লাভ করা। ঐ ভাই যেন তার ব্যবসার ভালো একটা পরিবেশ প্রস্তুত করতে সক্ষম হন, সেই প্রচেষ্টা আমরা করি। বিজ্ঞপ্তি
এমআর





