বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় মজলিসে শুরা সদস্য ও রমনা থানা আমীর ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় আওয়ামী লীগ নেতার সন্তানের জড়িত থাকা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র,আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের ভাতিজার জঙ্গি কানেকশান প্রমান করে আওয়ামী লীগ জঈিদেরকে মদদ দিচ্ছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করতে হবে। সরকারের জুলুম-নির্যাতন, দমন-নিপীড়ন আর গণ-গ্রেফতারের কারণে দেশের জনগন নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে পারেনি।

আজ (বুধবার) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রমনা থানার উদ্যেগে আয়োজিত ঈদপূর্নমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

থানা সেক্রেটারী জিল্লু রহমানের পরিচালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য, এম ইউসুফ আলী মোল্লা, খন্দকার রুহুল আমিন প্রমূখ।

ড.করিম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। সকল ধর্মের লোকই মিলেমিশে এখানে বসবাস করে আসছে। ধর্মীয়-বিরোধ কিংবা দাঙ্গা এখানে নেই। যা আমাদের প্রতিবেশী ভারতে হয়ে আসছে। ফলে এ ভূখন্ডের শান্তি-স্থিতিশীলতা অনেকের জন্যই চক্ষু-শূলের কারন হয়ে উঠেছে।

গুলশান ট্রাজেডিতে গোটা দেশের মানুষ স্তম্ভিত, হতবাক, আর শোকাহত। শোলাকিয়ায় হামলা সেই আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগনের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নেই। এক আতঙ্ক আর শঙ্কা তাড়া করে ফিরছে। তবু ও আওয়ামী লীগ ব্লেম গেইমের রাজরীতি বন্ধ করছে না। অযাচিত শর্তের ডামাঢোলে দেখা যাচ্ছেনা জাতীয় ঐক্যের কোন সম্ভাবনা।

অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করা আমাদের মানচিত্র। আধিপত্যবাদ,ও সাম্রাজ্যবাদের নখরে রক্তাক্ত, আর কালো মেঘে ঢাকা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজ আক্রান্ত। গনতন্ত্র না থাকলে উগ্রপন্থীর জন্ম হয়। ইসলামের স্বাভাবিক প্রচার-প্রসারে বাঁধা দিলে চরম-পন্থী ও জঈীবাদ বিস্তার লাভ করে। ক্ষমতালিপ্সু আওয়ামী লীগ আজ এ দুটোই করছে।

গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় আওয়ামী লীগ নেতার সন্তানের মৃত লাশ পাওয়ার পরও অন্যকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়া বন্ধ করতে করতে হবে। একশ্রেনীর স্বার্থনেস্বী মহল চোখে টিনের চশমা লাগিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যেই জঈী খুঁজছেন? এতদিন মন্ত্রী-এমপিরা মাদ্রাসাকে জঈী প্রজনন কেন্দ্র বলে আসলেও এবার জঈীরা সকলেই দেশের নামী-দামী স্কুল-কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্র হওয়ায় আওয়ামী লীগের মুখে কালি পড়েছে!। ইসলামে সন্ত্রাস ও জঈিবাদেও কোন স্থান নেই।

যুদ্ধপরাধ বিচারের নামে সব নীতি-নৈতিকতা, শিষ্ঠাচার, ন্যায়বিচার কে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে। দেশ পরিচালনায় জামায়াত নেতাদের সততা, দক্ষতা, দেশপ্রেমের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তাঁরা ছিলেন দূর্নীতিমুক্ত ও ইনাসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রামে অগ্রসেনানী। শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এদেশের তরুন প্রজন্ম শহীদদেরকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করবে।

আইন-শৃংখলার অবনতি,গনতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও মানবাধিকারের চরম অবনতিতে দেশের জনগন দিশেহারা। সেক্যুলার শিক্ষানীতির নামে তরুন প্রজন্মকে মেধাহীন ও ধর্মবিমূখ বানানোর গভীর চক্রান্ত করছে। আওয়ামী লীগের দূর্নীতি ও লুট-পাটের কারণে অথণীতির মেরুদন্ড ভেঈ পড়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

সরকার কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে মসজিদে নজর দারির উদ্যেগ নিচ্ছে? এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আজ সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশের আলেম-উলামাদের সহযোগীতা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে সরকারের একার পক্ষে জঈীবাদরোধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং বিভেদ সৃষ্টি না করে জাতীয় সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। তাই তিনি সরকার কে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।

এফএফ