যে পদ্ধতিতে ২৮ এপ্রিল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, সেটি একটি ভয়াবহ নির্বাচন। একটি কঠিন নির্বাচন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ কী ?

শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন প্রশ্ন তুলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

বি চৌধুরী বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ক্ষমতাসীনরাই বারবার ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু কিছুই করা যাবে না। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে এভাবে কেউ টিকতে পারে না। সরকার যদি বিষয়টা নিয়ে ভাবতেন তবে সবচেয়ে ভালো হতো।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকীব উদ্দীন আহমদ বললেন- দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এভাবেই ভবিষ্যতেও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যদি এভাবেই চলতে থাকে আর একই পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, তবে দেশে ভবিষ্যৎ কী?


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদীর আসন্ন সফরের বিষয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে আমাদের সু-সম্পর্ক রাখতেই হবে। সেক্ষেত্রে দিতেও হবে, নিতেও হবে। কিন্তু মাথানত করা যাবেনা। তার সফরে সরকারের এক নম্বর এজেন্ডা রাখতে হবে ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা। শুধু তিস্তার বিষয়টি রাখলে চলবে না।

মানবপাচারের বিষয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, মায়ের ছেলেরা সমুদ্রে ভাসছে। ডুবে মরছে। অথচ সরকারের কোনো মন্ত্রী সমুদ্রে গেলেন না, মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে গেলেন না। এটা খুবই লজ্জার বিষয়। সরকারের অন্তত তিনজন মন্ত্রীকে অবশ্যই যাওয়া উচিত ছিলো। উচিত ছিলো নৌবাহিনীকে পাঠানো, হেলিকপ্টার পাঠানো।

তিনি বলেন, নেপালে দশ হাজার মানুষ মারা গেছে। আমরা খুব ভালো ভূমিকা রেখেছি। কিন্তু দশ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রে মারা যাচ্ছে, এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা খুব লজ্জাজনক। সেখানে যদি রোহিঙ্গারা থেকে থাকে তবুও সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিলো। কেননা, তাদের আমরাই আশ্রয় দিয়েছি। এছাড়া তারাও তো মানুষ।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. জসীম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, কলামিস্ট কাজী সিরাজ, অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী প্রমুখ।

এমএইচ