রাষ্ট্রপতির গৃহীত উদ্যোগে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ।

শনিবার সাড়ে ১১ টায় নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, যে কমিশন সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করবে। বিএনপি তারই প্রতিধ্বনি করেছে ১৩ দফা প্রস্তাবে।

রিজভী আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকী। সংকুচিত গণতন্ত্রের পরিসর বাড়ানোর জন্যই নাসিক নির্বাচনে বিএনপি’র অংশগ্রহণ। নারায়ণগঞ্জবাসী ভোটারবিহীন সরকারের ধারাবাহিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ও মানুষের ভোটাধিকার হরণের জবাব দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। সকল যুগে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন পূর্বাপর অভিঘাতে বিদীর্ণ।

তিনি বলেন, কোন কালেই আওয়ামী লীগের সুষ্ঠু নির্বাচনের ইতিহাস ঐতিহ্য নেই। ওই ঐতিহ্য তাদের উত্তরসূরীরাও এখনো বহন করে চলছে। ৭৫’এর একদলীয় বাকশালের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে বর্তমানে যে ভয়াবহ দুঃশাসন, দেশজুড়ে লুটপাটের মহৌৎসব, রাজকোষ লোপাটসহ বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, কথা বলতে গেলেই মামলা-হামলা-কারানির্যাতন, নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ চলছে তার বিরুদ্ধে রায় দিতে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ।

দেশের আইন-শৃঙ্খলার কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে এতই নাজুক যে ঘরে-বাইরে কোন নাগরিকের এখন কোন ন্যুনতম নিরাপত্তা নেই। মা-বোনরা পর্যন্ত এখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়। বিনা বিচারে হত্যার সংস্কৃতি চালু রেখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার প্রয়াসে দেশজুড়ে এখন যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছে, তা নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিরোধী দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের জবাব মিলবে আগামী নাসিক নির্বাচনে।

নারায়ণগঞ্জে ভোটাররা এখনো শঙ্কা মুক্ত নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু নাসিক নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় ভোটাররা এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না, যেহেতু নির্বাচনী এলাকায় অস্ত্রধারীরা নীরবে অবস্থান করছে, সেহেতু ভোটের কয়েক দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ কী রঙ ধারণ করবে তা নিয়ে সংশয় জনমনে বিদ্যমান রয়েছে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলের দাবি সত্বেও সেটিকে পাশ কাটিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অগ্রাহ্য করেছে নির্বাচন কমিশন। এটিও স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে একধরণের সংশয় ও ভীতি কাজ করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যতগুলি নির্বাচন হয়েছে সেগুলি ছিল রক্তাক্ত ভোট সন্ত্রাসের এক অভিনব আখ্যান।

রিজভী বলেন, আমরা আবারো দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-এই নির্বাচন কমিশন তাদের অধীনে রক্তপাতের নির্বাচনের ন্যায় আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নাসিক নির্বাচন আলোহীন, ভোটহীন, ভোটারশুন্য ও অন্ধকারতুল্য প্রবণতার নির্বাচন সফল করার তৎপরতা চালালে সেটি প্রতিহত করার জন্য জনগণ দিবানিশি প্রস্তুত থাকবে।

কমিশনের মূঢ়তার আত্মঘাতি কর্মকান্ডের উপযুক্ত জবাব পেতে কমিশনকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ভোট ডাকাতি ও কারচুপির আশ্রয় নিতে গেলে সেসময় কমিশন নিস্ক্রিয়, নিদ্রামগ্ন ও সরকারের স্বার্থরক্ষায় তৎপর থাকলে সেটির প্রতিক্রিয়ার জন্যও নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এমই