মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, এখন থেকে বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের উপর ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।  

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করবে। কোন মুক্তিযোদ্ধাকে আর গৃহহীন থাকতে হবে না। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা যাতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভাতা পান সে লক্ষ্যে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। দূর দূরান্তের অনেক বয়সী বা পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি থেকে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে জেলা কিংবা উপজেলা সদরে এসে ভাতা তুলতে হয়। এ কষ্ট দূর করতে আগামীতে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে ভাতা পৌঁছে দেয়া হবে।  

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার কবর সরকারি বরাদ্দে ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একই নির্মাণ শৈলীতে তৈরি করা হবে। এছাড়া যেসব জায়গায় পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়েছে সেসব জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং জেলার বদ্ধভূমি নির্মাণ করা হবে। এখন থেকে বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের উপর ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।  শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আগামি কোরবানীর ঈদে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে বকেয়া বোনাসসহ মোট ৩২ হাজার ৫’শ টাকা প্রদান করা হবে।  পরে তিনি লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব ড. মইনুল হক আনসারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম কবীর, সাবেক জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ নজীর আহম্মেদ, মুক্তিযোদ্ধা শরীফ হুমায়ুন কবীর, এডভোকেট ফজলুল রহমান জিন্নাহ, জেলা ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট আব্দুল মতিন।উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস।

উজ্জল/এমবি