বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মু. রেজাউল করিম বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা ব্যর্থ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের পথে বেছে নিয়েছে। তারা বরেণ্য আলেম দ্বীন, সাবেক সফল মন্ত্রী ও আমীরে জামায়াতকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

কিন্তু সচেতন জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কখনোই মেনে নেবে না। তিনি সরকারকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ডাদেশ বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সরকারকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডায় আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিলিটি বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যশে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী শুরা সদস্য সালাহউদ্দীন, জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম, ড.আহসান হাবিব, শেখ নেয়ামুল করিম, জিল্লুর রহমান ও ছাত্রনেতা জামিল মাহমুদ প্রমুখ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও সাবেক সফল মন্ত্রী। তিনি পাবনা জেলার সাথিয়া ও বেড়া নির্বাচনী এলাকা থেকে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে দুইবার বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে জাতির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে তিনি অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন এবং নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনগণ তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন তুলেনি। ১৯৭১ সালের পর তার বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা বাংলাদেশের কোন থানায় একটি জিডি পর্যন্ত হয়নি।

তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দলীয় লোকদের দ্বারা মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে তাকে দুনিয়া হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী হত্যা করে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন আদর্শকে নির্মূল করা যায়নি, আর কখনো যাবেও না। তিনি সরকারের দেশ ও জাতিস্বত্তা বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

উত্তরা এলাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা চেষ্টার সরকারী ষড়যন্ত্রে প্রতিবাদে উত্তরা জোন দুপুর ১২ টায় হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্তদেন উত্তরা জোন পরিচালক ইবনে কারিম আহম্মেদ।

উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর শুরার সদস্য আবু উমার, বিমানবন্দর থানা আমীর, উত্তরা পূর্বের থানা আমীর, দক্ষিনখান থানার আমীর, খিলক্ষেত থানা আমীর ও বিভিন্ন থানার সেক্রেটারীগণ সহ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন থানার সভাপতি সেক্রেটারী বৃন্দ।মিছিলটি মেইন রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে এক পথ সভার মাধ্যমে শেষ হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন জনাব আবু উমার।

মোহাম্মদপুর জোন: মোহাম্মদপুর জোনের উদ্যোগে দুপুর ১২.৩০ টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি গ্রিনরোড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সরক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, মহানগরী শুরা সদস্য শেখ শরিফ উদ্দিন আহমেদ, জিয়াউল হাসান ও শফিউর রহমান, শিবিরের মহানগরী পশ্চিম এর সভাপতি খালিদ মাহমুদ, প্রাইভেট সভাপতি সাদমান সালেক, ঢাকা কলেজ সভাপতি- রিফাত হাসান মুন্না, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রহমান, আব্দুল হান্নান, মুহিবুল হক ফরিদ, আখতারুজ্জামান, আব্দুল ওয়াজেদ, ছাত্র নেতা আব্দুল আলিম, মিজানুর রহমান, রাজিব, রবিউল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, মামূন ও সাকিব প্রমুখ।

মিরপুর: জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে তারা এ বিক্ষোভ করে।

এসময় মিরপুর অঞ্চলের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়ন্ত্রের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে তাৎক্ষিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগর।

মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে আপিলের রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর গাজীপুর মহানগর জামায়াত আমীর ইবনে ফয়েজের নেতৃত্বে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে।

মিছিল শেষে নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ খাইরুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় নগর আমীর বলেন, জননেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মত জাতীয় বীরকে হত্যা করে এ সরকার কোনদিন তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবেনা। এজাতি কখনোই তা মেনে নেবে না।

মিছিলে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি আফজাল হোসাইন, ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি ইমতিয়াজ,সেক্রেটারি ইশমাম আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সহ জামায়াত ও শিবিরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পল্টন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা চেষ্টার সরকারী ষড়যন্ত্রে প্রতিবাদে পল্টনে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

শিবিরের প্রতিক্রিয়া: মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিও শুনানি বাতিল করে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখায় শিবিরের প্রতিক্রিয়া

প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইবুনালে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে প্রহসন মূলক রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিও শুনানি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখাকে ন্যায়ভ্রষ্ট উল্লেখ করে বিবৃতি প্রদান করেছে ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় নির্ধারিত ছকে প্রহসনের রায় দিয়েছিল প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইবুনাল। রাজনৈতিক এই রায় ন্যায় বিচারের ইতিহাসকে করেছিল কলঙ্কিত।

ট্রাইবুনাল কোন ন্যায় ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে নয় বরং সরকারের ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্ব শূন্য করার নীল নকশারই অংশ হিসেবে এই রায় দিয়েছিল। জনগণ আশা করেছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও জাতিকে অবিচারের নমুনা দেখতে হলো। এই রায়ে ন্যায় বিচারের প্রতিফলন হয়নি বলে মনে করে জনগণ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলা এবং সাক্ষী ছিল সাজানো যা সরকার পক্ষের অন্যতম সাক্ষী নান্নু মিয়ার গোপন ভিডিও প্রকাশ হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। অন্যদিকে তার জন্মস্থান পাবনার একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ ৩ জন বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপ্রণোদিত হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সাথে তার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই।

ট্রাইবুনাল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষকে কোন মূল্যায়ন না করে আত্মস্বীকৃত ভাড়াটে সাক্ষীদের মিথ্যাচারকে গ্রহণ করে। তাছাড়া ট্রাইবুনাল বলেছে, ‘মাওলানা নিজামীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেয়া ঠিক হয়নি, রায়ে জনমতের ইচ্ছার প্রকাশ পেয়েছে’ যা সরাসরি আওয়ামলীগ নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলন। এমন বক্তব্য কোন নিরপেক্ষ বিচারপতি বা ট্রাইবুনাল দিতে পারেনা।

অন্য দিকে ২০১৩ সালে তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশরে গিয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের দিন তারিখ নির্ধারণ করে বক্তব্য রাখেন। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতারা নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে মর্মে দফায় দফায় ঘোষণা দেন।

সরকার সরাসরি এ বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে যা স্কাইপি কেলেঙ্কারীর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। সুতরাং এ রায় যে আওয়ামীলীগ এবং তাদের দোষরদের সাজানো ছকে দেয়া হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ন্যায় বিচারের ইতিহাসে কলঙ্ক লেপনকারী এই রায় বহাল রাখা ন্যায় বিচার হতে পারে বলে মানুষ মনে করেনা।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে বার বার ন্যায় বিচার থেকে একজন নিরপরাধ মানুষকে বঞ্চিত করা চরম অমনাবিকতা। ন্যায় বিচার পাওয়ার সর্বশেষ জায়গা থেকেও ন্যায় বিচার বঞ্চিত হওয়া জাতির জন্য চরম দূর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু নয়।

যা জনগণকে বিচার বিভাগের উপর আস্থাহীন করে তুলবে। সরকারকে এ অপরাজনীতি ও বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে নিরাপরাধ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

এমবি