জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, “আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হলেও যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম প্রাপ্তির খাতাটা ততটা সমৃদ্ধ হতে পারেনি। আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম চেতনা উদার গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের স্বপ্ন আজও অধারায় রয়ে গেছে। তাই আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা ও স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে নতুন করে সংগ্রাম শুরু করতে হবে।”
তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাজধানীতে স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তঃথানা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শাখা সভাপতি ডা. মাহমুদ মোরাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রটারি জেনারেল রাশেদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন শাখা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, ক্রীড়া সম্পাদক মতিউর রহমান সহ শাখা নেতৃবৃন্দ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, “জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) এর প্রতিবেদন অনুসারে উন্নত দেশের তালিকায় পৃথিবীর ১৫৬টি দেশের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৭তম। যা আমাদের জন্য মোটেই সুখবর নয়। প্রকৃতপক্ষে একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি বা অগ্রগতি নির্ভর করে বেশকিছু নিয়ামকের উপর। জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তব রূপ, খাদ্য নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাধীন গণমাধ্যম, মত প্রকাশের অধিকার, মানসম্মত বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা, কর্মসংস্থান প্রভৃতি মাপকাঠি প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন এখনো হতাশার বৃত্তেই রয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল বাকস্বাধীনতা, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও জনগণ এসব অধিকারের নিশ্চয়তা পায়নি। বৈশ্বিক সুশাসকের সূচকে আমরা এখনো আমরা নিম্নমুখী। এমতাবস্থায় গণমানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে যুব সমাজকে অগ্রসৈনিকে ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো কখনোই পূরুণ হবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মাদকের কালো থাবা আমাদের যুবসমাজকে অন্ধকারের অতলগহŸরে নামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে মাদক খুবই সহজলভ্য। চলছে অবক্ষয়ের জয়জয়কার। সোস্যাল মিডিয়া মাধ্যমে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ায় যুব সমান নৈতিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে। তাই যুবসমাজকে এই অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে ছাত্রশিবিরকেই অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় আমাদের কোন অর্জনই ফলবতী হবে না।”
খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





