জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ৫৭ জন চৌকস মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্য করে এদেশের স্বাধিনতা সার্বভৌমতের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। অপরদিকে এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে এদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধ্বংস করে আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সীমানাকে অরক্ষিত করে দেয়া হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত পিলখানা শহীদদের স্মরণে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল সরকারের উদ্দ্যেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে সংগঠিত এই নৃসংশতায় পূর্বাপর কিছু ঘটনা জনগণের সামনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পিলখানায় দু’দিনব্যাপী কর্মসূচীর ২য় দিনও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি কেন থাকেন নি? তিনি কিছু উপলব্ধি করে থাকলে কেন পূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি? বিদ্রোহের নায়কদের ডেকে নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করলেন কেন? যেখানে অন্যদিকে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকলো। রাজনৈতিক তথা সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনা চলাকালীন সময়ে কিভাবে ভিতরে গেলেন? বিদ্রোহিদের সাথে তাদের সম্পর্ক কি? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি কাজে লাগানো হলো না কেন? উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হল কেন? তদন্ত প্রতিবেদনগুলো জাতির সামনে প্রকাশ করা হল না কেন?
এসব বহুবিধ প্রশ্নের জবাব একদিন আওয়ামী সরকারের কাছ থেকে এদেশের জনগণ কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেবে। গণমানুষের এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টদের একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে জনতা।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য এ্যডভোকেট হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় পিলখানা শহীদ পরিবারগুলোকে ধৈর্যধারণ ও সমবেদনা জ্ঞাপন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা হয়।
কেএইচ





