বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই। কারণ সরকার তাদের ব্যবহার করছে নিজেদের কাজে। ৭২ থেকে ৭৫ সালেও তারা একই কায়দায় গুম, খুন করেছে। দেশে এখন আবার ৭২-৭৫ সালের অতীত ফিরে এসেছে।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিচার বর্হিভুত হত্যা, গুম বন্ধের দাবীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ঢাকা মহানগর আয়োজিত গণ অনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়নগঞ্জের ঘটনায় তদন্তের আগে সরকারের নেতাদের বিএনপিকে এর সাথে জড়িয়ে বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কোন কিছু ঘটলে তার দায় চাপান বিএনপির ওপর। আপনাদের এমন বক্তব্য সুষ্ঠ তদন্তের পক্ষে বিরাট বাধা।বিএনপি তো ভিকটিম গত কয়েক মাসে আমাদের ৪শতাধিক নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন আর গুমের শিকার হয়েছেন শতাধিক নেতা-কর্মী।
তিনি বলেন, নজরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের বাসা থেকে গাড়ী ও রক্ত মাখা জামা উদ্ধার করে সরকার জনগণের আই ওয়াস করছে।
নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর হত্যাকান্ড ঘটল? কেন অপহরণের পর পরই নূর হোসেনেরে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়নি।
এতদিন পর অভিযান চালিয়ে এ আলামতগুলো পাওয়া গেছে আরো আগে অভিযান চালানো হয়নি কেন?
তথ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আপনি বলেছেন, জঙ্গীবাদের মদদ দাতা বিএনপি! ৭২-৭৫ সালে শেখ মুজিবকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য গণবাহিনী গঠন কেন করেছিলেন?  আপনি কি দেশের জনগণ কে আজও সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আপনিই প্রথম দেশে জঙ্গীবাদের উদ্ভব ঘটিয়েছেন।
তিনি বলেন, আজ দেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য এই সরকার কে হটাতে হবে। মানুষের অধিকার আদায়ে সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
বিএনপির এমন কোন নেতা নেই যাদের বিরুদ্ধে ২০/৩০ টি মামলা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, মামলা-হামলা গুম খুন করে সরকার বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। একদলীয় এবং একনায়কতন্ত্র সরকার কখনই জনগণের অধিকার পূরণ করতে পারেনা।
তিনি আরো বলেন, দেশের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের মানববন্ধনে কেন বাধা দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষই এখন আপনাদের শত্রু। গতকাল সংসদ ভবনের সামনে ড. শাহদীন মালিক, সুলতানা কামালসহ মানবাধিকার কর্মীদের মানববন্ধন করতে না দেয়ার সমালোচনা করে বলেন, আপনারা এখন শুধু বিরোধী দল নয় যারা রাজনীতি করেন না কিন্তু দেশের কথা চিন্তা করেন তাদেরকেও কথা বলতে দেন না।
এর আগে রোববার সকাল সোয়া ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। খুন-গুম-অপহরণ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপির গণ-অনশন কর্মসূচি চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
এখন পর্যন্ত অনশনে গণ অনশনে আরো রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, এমকে আনোয়ার, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, জেডএম জাহিদ, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ওলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক প্রমূখ উপস্থিত আছেন। এছাড়া বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এ কর্মসূচিতে শরিক হয়েছেন।
[b]ঢাকা, এমএইচ,  ০৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]