স্বৈরাচারী সরকারের দু:শাসন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের সংগ্রামী জনতা ফুঁসে উঠেছে। জেলায় জেলায় জনতা সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

আজ ০৯ ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় সন্ত্রাসী ক্যাডারের মত ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

তারা বিনা কারণে জামায়াত ও ছাত্র শিবিরসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের গুলি করে হত্যা করছে। মানুষের বাড়ী-ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এমনকি পুলিশ টাকার লোভে মানুষ হত্যা করছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী লুটেরা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

সম্ভাবনায় মেধাবী ছাত্র-যুবকদের বেছে বেছে সরকার হত্যা করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হাবিবুর রহমান হল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো: হাবিবুর রহমানকে ৬ ফেব্রুয়ারী পুলিশ আটক করার পর গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। তাকে এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির করা হয়নি। তার সুচিকিৎসার কোন ব্যবস্থাও করা হয়নি। তার জীবনহানির আশঙ্কায় তার পরিবার-পরিজন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সরকার সারা দেশে যে অত্যাচার-নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, গুম ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে যাতে কেউ মুখ না খুলে এবং সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় যেন খবর প্রকাশ না করতে পারে সে জন্য নানাভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে। সরকারের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদের বাড়ীতে গুলি ও হামলা চালিয়ে সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা তার উপর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

সরকার বাংলাভিশনের জনপ্রিয় টক’শো ফ্রন্ট লাইন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। সরকারের এ সব গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকারের সকল গণবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সরকারের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আজও জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় তিনশত নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের সেক্রেটারী জনাব সাইফুল আলম ও ঢাকা মহানগরীর মহিলা বিভাগের সদস্যা আফিয়া আযাদ। সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মহিলারাও রেহাই পাচ্ছেন না।

সরকারের স্বৈরশাসন, দু:শাসন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্বার গণআন্দোলন চালিয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি সংগ্রামী জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

এসএইচ