বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই নিপীড়ক শাসকচক্রের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন সংগ্রাম কেবলই বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়।
রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফেরত দেওয়ার এই আন্দোলনে জনতার প্রতিরোধের মুখেই অবৈধ সরকার পলায়নে বাধ্য হবে।
শনিবার বিকাল সোয়া ৪টায় ২০ দলের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সরকার অস্ত্রের জোরে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে প্রতিমূহুর্তে মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জনকে পদদলিত করে গণতন্ত্রকেই বিলুপ্ত করে দিতে চায়।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর স্মরণে রাখা উচিৎ-তার পিতা বাকশাল গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করে যেমন আওয়ামী লীগকে অস্তিত্বহীন করে দিয়েছিল; তেমনি তিনিও পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পূণর্বার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে দাফন করার আয়োজন করে চলেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের নিভৃত পল্লীতে গতকাল মিথ্যা মামলায় বিএনপি নেতাকে ধরতে গিয়ে পুত্র রেজওয়ানুলকে হত্যা করে স্ত্রী-কন্যাকে গুলিবিদ্ধ করে পুলিশ গ্রামবাসীর প্রতিরোধে পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আজ দেশের সকল পাড়ায়-মহল্লায় জনগণের নেতৃত্বে স্বত:স্ফুর্তভাবে প্রতিরোধ-সংগ্রাম কমিটি গড়ে উঠেছে। রাস্তায় কয়েকটি গাড়ী চলাচল দেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও আন্দোলনে তৃণমূলের ব্যাপক অংশগ্রহণ আওয়ামী সরকারকে সমূলে উৎপাটন করতে বেশী সময়ের প্রয়োজন হবে না।
সালাহ উদ্দীন বলেন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি জাকির হোসেন, ছাত্রনেতা মৃণাল কান্তিকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে বোমাবাজ সাজানোর পুলিশী নাটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এছাড়া, ছাত্রদল, যুবদলসহ যেসকল অসংখ্য নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতারের পর অস্বীকার করছে তাদের সকলের তালিকা আমরা সংরক্ষণ করছি। পুলিশ-র্যাবের কতিপয় দলকানা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-এই সরকারই শেষ সরকার নয়; অতএব অবৈধ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা করে আইনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, বিনা ভোটের অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হুকুমে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি’র কতিপয় দলবাজ সেবাদাস কর্তাব্যক্তিরা আন্দোলনরত বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন নৃশংস কায়দায় ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিচারবহির্ভুতভাবে হত্যা করে সমগ্র দেশকে বধ্যভুমিতে পরিণত করলেও তারা অবৈধ সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না।
২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত সর্বত্র ঐসমস্ত দলবাজ পিশাচ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা প্রণয়ন অব্যাহত রেখেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বাংলা একাডেমী ও টিএসসি’র মতো স্থানে নিñিদ্র পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ড প্রমান করে এদেশের কোনো নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ। আমরা অভিজিৎ হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি।
গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান অনির্দিষ্টকালের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি আগামীকাল রোববার সকাল ৬ টা থেকে বুধবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ৭২ ঘন্টার সর্বাত্মক হরতাল এবং আগামীকাল সারাদেশে অনুষ্ঠিতব্য গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আবারো বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে উদ্বাত্ত আহবান জানাচ্ছি।
এমএইচ/এসএইচ





