আসন্ন ঈদের পর সরকার পতন ও তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি- জামায়াত। অন্যদিকে আন্দোলন ঠেকানোর ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ঠেকাতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। গত ৮ জুন দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকদের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ৭ জেলায় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কয়েকটি জেলায় কাউন্সিল ইতোমধ্যে করা সম্পন্ন করা হয়েছে। তৃণমূল  নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগাতেই জেলায় জেলায় কাউন্সিল করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে ঢাকা মহনগর আওয়ামী লীগের ৫টি থানা ছাড়া বাকি থানার কাউন্সিল শেষ হয়েছে। কিন্তু কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ঈদের পর সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মহানগর ওয়ার্ড ও থানা কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গত রোববার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ তথ্য জানান।

এ সময় মায়া বলেন, “ঈদের পর ওনি (খালেদা জিয়া) নাকি আন্দোলন করবেন। পাগলে কি না বলে ছাগলে কি না খায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। ঈদের পর আমরা সচেষ্ট থেকে তাদের নাম চিরকালের জন্য, বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করব।”

আওয়ামী লীগের একটি ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দলের সিনিয়র নেতারা ইতোমধ্যে দলীয় নেতার্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় তাদের (বিএনপি জামায়াত) সহিংস আন্দোলন ঠেকাতে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীরা বলেছেন, আন্দোলন করা যেকোন রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। সে হিসেবে বিএনপিরও  আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তবে বিএনপি আন্দোলনের নামে যদি কোন ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাহলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, যতই  হুমকি-দামকি দেন আপনাদের (বিএনপি) আন্দোলন করার মুরোদ আমাদের জানা আছে।

আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আমরা যেমন আন্দোলন করতে জানি, তেমনি আন্দোলন ঠেকানোর কায়দাও জানি।

এ সময় আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় আন্দোলন করার অধিকার আপনাদের (বিএনপি) আছে। তবে আন্দোলনের নামে যদি নৈরাজ্য করেন তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

গত সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট  মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ঈদের পর যদি সহিংসতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার হটানোর চেষ্টা করেন তাহলে সরকারের প্রশাসনিক অঙ্গ বসে থাকবে না।

আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হেড মাস্টার উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, ২টি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কেউ পারবে না, একটি হলো মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যটি আন্দোলন। তাই আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

এদিকে মঙ্গলবার ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক ও মুক্তিযুদ্ধ অর্জনকারী দল আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই।

আন্দোলন ঠেকানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেলিন টাইম নিউজবিডিকে জানান, ঈদের পরে তারা (বিএনপি) আন্দোলন করবে ভালো।

তবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না। অতীতের মত তারা এর প্রতিরোধ করবে। কেউ বলল কান চিলে নিয়ে গেছে আর আমরা চিলের পিছে দৌঁড়াবো তা হতে পারে না। দেখি তারা ঈদের পর কি আন্দোলন করে। তাদের আন্দোলন অতীতে জনগণ প্রত্যাখান করছে এখনও করবে।

ঢাকা, এমআর,১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ