বিশ দল বিষফোড়া প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আপনি জেনে না জেনে ২০ দলকে ভয় করছেন। নয়তো এতো কথা বলছেন কেন। হয়তো তারা সত্য কথা বলছে নয়তো নিশ্চয় জনগণের সমর্থন রয়েছে যারা কারণে আপনার এতো ভয়।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে মুক্ত বুদ্ধির রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। তাঁর কল্যানেই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। এমনকি আ’লীগেরও পুনর্জন্ম হয়েছিল।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ রুদ্ধদশা থেকে মুক্ত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতার জন্য আসেন নাই। তিনি দেশের নেতৃত্বশূণ্যতা পূরণে দেশের দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, অর্থনীতি ও সামাজিক সকল ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছিলেন। তিনি দেশকে তলী বিহীণ ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রুপান্তর করেছিলেন।

সরকারের মন্ত্রীরা একেকজন বিচিত্র ধরণের চিড়িয়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য এ বছরের সর্ব নিকৃষ্ট উক্তি। ঘুষ নেয়া দোষের নয় তিনি এধরণের মন্তব্য করে জঘন্য অন্যায় করেছেন। কিছুদিন পর দেখা যাবে তিনি বার্ষিক বাজেট পেশের সময় ঘুষের বাজেটও পেশ করবেন।

সমাজ কল্যান মন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে আরেকজনতো আছেন নিদ্রা মন্ত্রী। তিনি মিটিংএ কিভাবে ঘুমায়। এভাবে যদি রাষ্ট্রের কর্তারা ঘুমায় তবে রাষ্ট্রের কী অবস্থা হবে। এসময় তিনি পরপর তথ্যমন্ত্রী, হাসানুল হক ইনু, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদসহ অনেক মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, সরকারের মধ্যে এমন নানান প্রজাতির মন্ত্রীদের চিড়িয়া খানায় পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনা পুত্র জয়ের ব্যাপারো কাউকে মন্তব্য না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সে লার্নিং প্রসেসে আছে। সে বাংলাদেশে ছিলনা। বিদেশে থেকেছে এমনকি বিয়েও করেছে বিদেশীনীকে। তাই সে অনেক কিছুই জানেনা। তাকে শিখতে দিন, জানতে দিন। তাকে নিয়ে কেউ মন্তব্য করবেন না।

লতিফ সিদ্দিকীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, যে দেশে প্রধানমন্ত্রীর নামে ফেসবুকে কিছু বললে মানহানি হয়। জেলে যেতে হয়, শাস্তি পেতে হয়। সে দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার পরেও লতিফ সিদ্দিকীর কেন শাস্তি হবে না।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ।

জেএ