সংবাদ প্রকাশের পর নারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলার আসামি ও বহিষ্কৃত এ শিক্ষার্থী।
চাঁদার টাকা ফেরত দিতে ওই নারী ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করা সিরাজুল ইসলাম ও শাখা ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক রফিকের পৃথক তিনটি মুঠোফোন আলাপের রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে গতবছরের জুলাই মাসে পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের আল বারাকা পাবলিকেশন্সে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া সিরাজুল ইসলামের ভিডিওচিত্রও ধারণ করা হয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, রফিকসহ অন্তত ১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী ওই নারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছিলেন।
এ ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাঁদাবাজি করলে ১০ হাজার টাকার জন্য না, ১০ লাখ টাকার জন্য করবো।
তবে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বুধবার রাতেই সিরাজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও রফিক ওই নারী ব্যবসায়ীকে টাকা ফেরত দিতে একাধিকবার তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকরা যেন এ ধরনের নিউজ না করে সেজন্যও তাকে অনুরোধ করেন। পরে রাতেই ওই ব্যবসায়ীকে টাকা ফেরত দিয়ে দেন তারা।
এ ব্যাপারে ওই নারী ব্যবসায়ী বলেন, সিরাজ, কামরুল ও রফিক আমাকে রাতে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে। পরে তারা আমার টাকা ফেরত দেয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদও ঘটনা জানতে তাকে ফোন দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এর আগে ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৫ লাখ টাকার টেন্ডার ছিনতাই করেছিলেন সিরাজুল ইসলাম। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে পরদিনই শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভায় শিক্ষকদের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি।
তবে ১৫ মার্চ রাতেই কোতয়ালী থানায় শিক্ষককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সিরাজের নামে মামলা করেছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অশোক কুমার সাহা। এ ছাড়া সিরাজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ১৮ মার্চ তাকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও সাময়িক বহিষ্কার করেছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি তার শাস্তি চেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। পরে সিরাজের ক্ষমা চাওয়ার প্রেক্ষিতে একই বছরের ৫ জুন সিন্ডিকেট সভায় তাকে শিক্ষক সমিতির কাছে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
১২ জুলাই শিক্ষক সমিতির কাছে মুচলেকা দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়ে কার্যত তা প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষক সমিতি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা ও বহিষ্কারাদেশ বহাল রয়েছে।
এদিকে, ২০১৪ সালের ২২ জুলাই পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের আল বারাকা পাবলিকেশন্সের সিসি ক্যামেরায় তার চাঁদাবাজির চিত্র ধরা পড়েছিল, এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাংবাদিক হেদায়েত বাবু তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় জিডিও করেন।
এএইচ





